নওগাঁর মান্দায় আড়াই লাখ টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগে বেলাল হোসেন (৪২) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর নওগাঁর ২ নম্বর আমলি আদালতে তাঁর স্ত্রী শোভা খাতুন (৩৭) যৌতুক নিরোধ আইনে মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।
মামলার এজাহার ও বাদীপক্ষের আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, শোভা খাতুন ও বেলাল হোসেনের মধ্যে আগে থেকেই পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাঁদের দুজনেরই এর আগে পৃথক বিয়ে হয়েছিল। পরে ২০২৫ সালের ১ মার্চ ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে তাঁরা বিয়ে করেন। বিয়ের পর নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এ বিষয়ে এফিডেভিটও করা হয়।
বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী নওগাঁ শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যবসার কথা বলে বেলাল হোসেন তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেন। ওই টাকা দেওয়ার জন্য শোভা খাতুন একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা থেকে ঋণ নেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, ওই টাকা দেওয়ার পরও বেলাল হোসেন আরও যৌতুক দাবি করতে থাকেন। এ নিয়ে তাঁকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই সকালে নওগাঁ শহরের ভাড়া বাসায় মোটরসাইকেল কেনার জন্য বেলাল তাঁর স্ত্রীর কাছে আরও আড়াই লাখ টাকা দাবি করেন।
শোভা খাতুন ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে গালিগালাজ ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাঁকে এক কাপড়ে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পরে শোভা খাতুন তাঁর প্রথম পক্ষের ছেলের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নেন। মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে ওই সময় বেলাল হোসেন আড়াই লাখ টাকা না দিলে তিনি সংসার করবেন না বলে জানান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময় তাঁকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন শোভা।
পরে কোনো সমাধান না হওয়ায় ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হন শোভা খাতুন। মামলায় বেলাল হোসেনকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। তিনি মান্দা উপজেলার মিরপুর (সতীহাট) গ্রামের আসাদ আলীর ছেলে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বেলাল হোসেন বলেন, “শোভা যেহেতু আদালতে মামলা করেছেন, মামলার মাধ্যমেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে।”
মামলাটি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন রয়েছে। বাদীর অভিযোগ ও আসামির বক্তব্যের বাইরে অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!