স্বাস্থ্য ও ফিটনেস ট্র্যাকিংকে আরও উন্নত করতে নতুন Apple Watch Series 12 উন্মোচন করেছে অ্যাপল। নতুন Health Sensing System এবং S11 চিপের সমন্বয়ে তৈরি এই স্মার্টওয়াচে আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন হার্ট রেট ও হার্ট রেট ভ্যারিয়েবিলিটি বা HRV পরিমাপ করা যাবে। পাশাপাশি থাকছে নতুন Readiness Score, উন্নত স্বাস্থ্য তথ্য, দ্রুত চার্জিং এবং Apple Intelligence নির্ভর বেশ কিছু সুবিধা। অ্যাপলের ঘোষণা অনুযায়ী, সিরিজ ১২-এর প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে এবং বিক্রি শুরু হবে ১৮ সেপ্টেম্বর। যুক্তরাষ্ট্রে এর দাম শুরু ৩৯৯ ডলার থেকে।
Apple Watch Series 12-এর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে স্বাস্থ্য সেন্সিং ব্যবস্থায়। নতুন Health Sensing System-এ উন্নত অপটিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল হার্ট সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যাপলের দাবি, নতুন প্রযুক্তির কারণে এটি কোনো ওয়্যারেবল ডিভাইসে পাওয়া সবচেয়ে নির্ভুল হার্ট রেট সেন্সিং ব্যবস্থা। এক হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় বিভিন্ন ওয়্যারেবলের হার্ট রেট পরিমাপের নির্ভুলতা তুলনা করে এই দাবি করা হয়েছে।
নতুন অপটিক্যাল হার্ট সেন্সরে বড় ও বেশি শক্তি সাশ্রয়ী সবুজ LED ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে ঘড়িটি সারাদিন প্রতি পাঁচ সেকেন্ডে একবার করে ব্যাকগ্রাউন্ড হার্ট রেট মাপতে পারবে। এতে ব্যবহারকারীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আরও ঘন ঘন তথ্য পাওয়া যাবে এবং Exercise ও Move Activity-এর হিসাবও আরও নির্ভুল হওয়ার কথা জানিয়েছে অ্যাপল। নতুন ওয়াচ ফেস কমপ্লিকেশনের মাধ্যমে সরাসরি হার্ট রেট দেখার সুবিধাও থাকছে।
HRV বা Heart Rate Variability পর্যবেক্ষণেও বড় উন্নতি হয়েছে। নতুন ঘড়িতে HRV প্রতি পাঁচ মিনিট পর্যন্ত পরিমাপ করা সম্ভব, যা আগের তুলনায় ২৪ গুণ বেশি ঘন ঘন মাপার সুযোগ তৈরি করে। Apple Watch Series 12-এ Recovery HRV এবং Overall HRV নামে দুটি ধরনের তথ্য দেখানো হবে। এর মাধ্যমে দৈনন্দিন স্ট্রেস ও শরীরের পুনরুদ্ধারের অবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সূচক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
নতুন Readiness Score ফিচারটি ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন রুটিনের সঙ্গে স্বাস্থ্য ও ফিটনেস তথ্যকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করবে। সাম্প্রতিক শারীরিক কর্মকাণ্ড, ট্রেনিং লোড, বিভিন্ন স্বাস্থ্য তথ্য এবং ঘুমের স্কোর বিশ্লেষণ করে ঘড়িটি ০ থেকে ১০-এর মধ্যে একটি স্কোর দেবে। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে Recover, Pace Yourself, Ready অথবা Go For It-এর মতো পরামর্শ দেখাবে। দিনের মধ্যে নতুন তথ্য যোগ হলে Readiness Score-ও পরিবর্তিত হবে।
স্বাস্থ্য তথ্য দেখার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনছে অ্যাপল। আইফোনের Health অ্যাপের নতুন সংস্করণে Insights এবং Longevity নামে নতুন বিভাগ যুক্ত হবে। Longevity বিভাগে Health Age নামে একটি ফিচার থাকবে, যা ব্যবহারকারীর কিছু স্বাস্থ্য সূচক প্রকৃত বয়সের তুলনায় কী অবস্থায় রয়েছে তা বোঝাতে সাহায্য করবে। নতুন Health অ্যাপটি ২০২৬ সালের শেষ দিকে চালু হবে এবং শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ইংরেজি ভাষায় পাওয়া যাবে।
ব্যাটারি ও চার্জিংয়েও উন্নতি করা হয়েছে। Apple Watch Series 12 সাধারণ ব্যবহারে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে পারবে। বাইরে ওয়ার্কআউট ট্র্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে পাওয়া যাবে সর্বোচ্চ ১০ ঘণ্টা ব্যাটারি, যা আগের মডেলের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। আর মাত্র ১৫ মিনিট চার্জ করলেই সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার অতিরিক্ত ব্যাটারি পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে অ্যাপল।
পদক্ষেপ গণনা বা Step Tracking-ও নতুন মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে আরও নির্ভুল করা হয়েছে। বিশেষ করে ইনডোর হাঁটা বা দৌড়ানোর সময় দূরত্ব নির্ণয় এবং সারাদিনের স্টেপ কাউন্টে উন্নতি আনার কথা জানিয়েছে অ্যাপল। নতুন Steps Complication ব্যবহার করে ঘড়ির ওয়াচ ফেস থেকেই রিয়েল টাইমে পদক্ষেপের সংখ্যা দেখা যাবে।
নতুন S11 চিপ শুধু স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের জন্য নয়, ঘড়ির বুদ্ধিমান ফিচারগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। watchOS 27-এর সঙ্গে Apple Intelligence নির্ভর Siri AI Apple Watch Series 12-এ আসছে। ফলে ঘড়িতে Siri ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ বুঝে আরও স্বাভাবিকভাবে তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি S11 চিপের মাধ্যমে Audio Intelligence-এর কিছু নতুন সুবিধা পরবর্তী সময়ে যুক্ত হবে, যা কথোপকথনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত মনে রাখতে এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ শব্দ সম্পর্কে সতর্ক করতে সহায়তা করবে।
ডিজাইনেও নতুনত্ব রয়েছে। Apple Watch Series 12 পাওয়া যাবে ডার্ক ব্রোঞ্জ, কালো, লাইট গোল্ড ও স্পেস গ্রে অ্যালুমিনিয়াম রঙে। টাইটানিয়াম সংস্করণে থাকছে Radiant Gold ও Natural Titanium। এছাড়া নতুন সিরামিক সংস্করণে Pearl White ও Night Blue রঙের বিকল্প থাকছে। অ্যালুমিনিয়াম মডেলে Ceramic Shield 2 ব্যবহার করা হয়েছে, যা অ্যাপলের দাবি অনুযায়ী আগের Ion-X গ্লাসের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেশি শক্তিশালী।
Apple Watch Series 12-তে আগের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সুবিধাগুলোও থাকছে। এর মধ্যে রয়েছে ওয়ার্কআউট ও ঘুম পর্যবেক্ষণ, হার্ট স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নোটিফিকেশন, ECG, Sleep Apnea Notification, Fall Detection এবং Emergency SOS। অর্থাৎ নতুন মডেলটির লক্ষ্য শুধু স্মার্টওয়াচ হিসেবে নয়, বরং দৈনন্দিন স্বাস্থ্য, ফিটনেস ও নিরাপত্তার একটি সমন্বিত ডিভাইস হিসেবে কাজ করা।
অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, Apple Watch Series 12-এর বিক্রি শুরু হবে ১৮ সেপ্টেম্বর। ভারতসহ বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে প্রি-অর্ডারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক বিক্রয়মূল্য বা বাজারে সরাসরি সরবরাহের বিষয়ে অ্যাপলের এই ঘোষণায় আলাদা কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!