ম্যানচেস্টার ডার্বিতে এরলিং হালান্ডের বিতর্কিত গোল নিয়ে বড় ধরনের ভুল স্বীকার করেছে ইংল্যান্ডের রেফারিং সংস্থা প্রো রেফ। ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটির মধ্যকার ম্যাচে ৬০তম মিনিটে গোল করেন হালান্ড। শুরুতে মাঠের রেফারি গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল করেছিলেন। পরে ভিডিও সহকারী রেফারি ঘটনাটি পর্যালোচনা করে হালান্ডকে অনসাইড হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। শেষ পর্যন্ত ওই গোলই ম্যাচের একমাত্র গোল হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সিটি ১-০ ব্যবধানে জয় পায় এবং সিদ্ধান্তটি নিয়ে ম্যাচের পর থেকেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।

বিতর্কের মূল জায়গাটি ছিল ম্যানচেস্টার সিটির এনজো ফার্নান্দেজের অবস্থান। গোলের আক্রমণে ফার্নান্দেজ অফসাইড অবস্থানে ছিলেন এবং তিনি বল খেলার চেষ্টা করেছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি বলে স্পর্শ করতে পারেননি। ভিডিও সহকারী রেফারি বিষয়টি পর্যালোচনা করার সময় ফার্নান্দেজ বল না খেলায় তার অবস্থানকে সরাসরি অফসাইড অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেননি। তবে পরবর্তী বিশ্লেষণে উঠে আসে, ফার্নান্দেজের অবস্থান এবং তার কর্মকাণ্ড ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডিফেন্ডারদের খেলায় প্রভাব ফেলেছিল কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই বিষয়টিই পরে সিদ্ধান্ত নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করে।

প্রো রেফ জানিয়েছে, ফার্নান্দেজ বল স্পর্শ না করলেও তার অবস্থান প্রতিপক্ষের খেলায় সম্ভাব্য প্রভাব ফেলেছিল কি না, সেটি ছিল একটি বিচারনির্ভর বিষয়। অর্থাৎ শুধু প্রযুক্তির মাধ্যমে অফসাইড লাইন যাচাই করলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব ছিল না। ভিডিও সহকারী রেফারির উচিত ছিল পুরো ঘটনাটি বিবেচনা করে মাঠের রেফারিকে আবার সরাসরি পরিস্থিতি দেখার পরামর্শ দেওয়া। কিন্তু সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। প্রো রেফের মতে, ভিডিও সহকারী রেফারি ফার্নান্দেজের অবস্থানের সম্ভাব্য প্রভাব যথাযথভাবে বুঝতে পারেননি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্তে প্রয়োজনীয় বিচার-বিশ্লেষণের ঘাটতি থেকে যায়।

প্রো রেফের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিও সহকারী রেফারির এই সিদ্ধান্তকে তারা একটি ‘এরর অব জাজমেন্ট’ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভুল হিসেবে দেখছে। সংস্থাটি ঘটনার বিষয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং নিজেদের ভুলের বিষয়টি স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে তারা এ ঘটনায় ক্ষমা প্রকাশ করেছে। পুরো ঘটনাটি আবার পর্যালোচনা করার কথাও জানিয়েছে প্রো রেফ। তাদের এই স্বীকারোক্তির পর বিতর্ক আরও বড় আকার ধারণ করেছে। কারণ ম্যাচের ফলাফলে ওই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব ছিল। একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভিডিও সহকারী রেফারির এমন ভুল কীভাবে হলো এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ মাইকেল ক্যারিক ম্যাচের পর সিদ্ধান্ত নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। ইউনাইটেডের খেলোয়াড়দের মধ্যেও ঘটনাটি নিয়ে অসন্তোষ দেখা যায়। বিশেষ করে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের ওপর ফার্নান্দেজের অবস্থানের প্রভাব ছিল কি না, সেটিই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটির জন্য গোলটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেটিই শেষ পর্যন্ত তাদের জয় এনে দেয়। ম্যাচে সিটি একপর্যায়ে ১০ জনের দলেও পরিণত হয়েছিল। তারপরও তারা নিজেদের লিড ধরে রাখে। ফলে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও বিষয়টি নিয়ে ফুটবল মহলে আলোচনা চলতে থাকে।

তবে প্রো রেফের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তারা বলেনি যে হালান্ড নিজে অফসাইড ছিলেন। বরং হালান্ডের অবস্থান প্রযুক্তিগতভাবে অনসাইড ছিল বলেই গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। মূল প্রশ্ন ছিল ফার্নান্দেজের অফসাইড অবস্থান এবং তার সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ। ভিডিও সহকারী রেফারির উচিত ছিল এই বিচারনির্ভর বিষয়টি মাঠের রেফারির সামনে তুলে ধরা। সেটি না করাকেই প্রো রেফ ভুল হিসেবে স্বীকার করেছে। এখন ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার অপেক্ষা রয়েছে। এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, আধুনিক ফুটবলে প্রযুক্তি থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে রেফারির বিচারবুদ্ধি এবং সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!