মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ছয়টি গবেষণা ও উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শিত হচ্ছে রাজধানীর নভোথিয়েটারে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এ। ‘Innovate to Market’ বা ‘উদ্ভাবন থেকে বাজার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, উদ্ভাবক, স্টার্টআপ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। মেলায় প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, পরিবেশ, শিক্ষা ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতের উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রদর্শিত হচ্ছে।
মেলার উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, গবেষক, উদ্ভাবক, স্টার্টআপ উদ্যোক্তা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এবারের মেলায় মাভাবিপ্রবির পক্ষ থেকে ছয়টি উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, কৃষি ও খাদ্য, পাটের বহুমুখী ব্যবহার, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবন।
মেলায় প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ড্রাইভ গার্ড: সর্বজনীন বুদ্ধিমান ও উন্নত চালক সহায়তা ব্যবস্থা’। প্রকল্পটির উপস্থাপক অধ্যাপক ড. শাহীন উদ্দীন। বুদ্ধিমান প্রযুক্তি ব্যবহার করে চালকদের সহায়তা এবং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার সম্ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে এ প্রকল্পের মাধ্যমে।
অন্যদিকে অধ্যাপক ড. এ কে ওবায়দুল হক ও তাঁর দুই তরুণ গবেষকের উদ্ভাবিত ‘NutriCare Software for Dietary Management and Health Care Model’ প্রকল্পটিও মেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে। এটি সফটওয়্যারভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ। মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রকল্পটি উদ্বোধন ও উন্মোচন করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
খাদ্য ও পুষ্টি খাতেও মাভাবিপ্রবির দুটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রদর্শিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘সবজি মিশ্রিত সবুজ রুটি’, যার উপস্থাপক অধ্যাপক ড. এ কে ওবায়দুল হক। পাশাপাশি অধ্যাপক ড. রোকেয়া বেগমের উপস্থাপনায় রয়েছে ‘ডুমুরের (Ficus carica) অ্যান্টিডায়াবেটিক সম্ভাবনা নির্ণয়ে ইন সিলিকো স্ক্রিনিং এবং ডুমুরভিত্তিক চিবিয়ে খাওয়ার ট্যাবলেট ও কার্যকরী কুকিজ উন্নয়ন’ প্রকল্প।
পাটের বহুমুখী ব্যবহার ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তুলে ধরতে মেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে ‘পাটের তন্তু দিয়ে ভবিষ্যৎ নির্মাণ: উন্নত উদ্ভাবনী উপকরণের উন্নয়ন ও বাণিজ্যিকীকরণ’ প্রকল্প। এর উপস্থাপক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল বাশার। প্রকল্পটির মাধ্যমে পাটের আঁশকে আধুনিক ও টেকসই উপকরণ হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও রয়েছে মাভাবিপ্রবির গবেষণা। ‘মেশিন লার্নিং মডেল ব্যবহার করে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মনোযোগভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য বিশ্লেষণ’ প্রকল্পটি উপস্থাপন করছেন অধ্যাপক আবীর হোসেন। মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণের সম্ভাবনা এ প্রকল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে।
এ ছাড়া আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রদর্শিত হচ্ছে ‘স্মার্টফোন-সহায়িত ডিস্ট্রিবিউটেড নোডভিত্তিক মাল্টি-হপ অফলাইন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক’ প্রকল্প। এর উপস্থাপক মাভাবিপ্রবির সহকারী অধ্যাপক আরিফুল আলম। প্রকল্পটির মাধ্যমে স্মার্টফোন ও বিকেন্দ্রীভূত নোড ব্যবহার করে প্রচলিত ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা প্রদর্শন করা হচ্ছে।
মাভাবিপ্রবির স্টলে এসব উদ্ভাবনের ব্যবহারিক প্রয়োগ, সম্ভাব্য বাণিজ্যিকীকরণ এবং সমাজ ও শিল্পক্ষেত্রে সম্ভাব্য অবদান সম্পর্কে দর্শনার্থী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অবহিত করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরা। একই সঙ্গে গবেষণাগারভিত্তিক উদ্ভাবনকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ এবং বাজারমুখী করার বিভিন্ন সম্ভাবনাও তুলে ধরা হচ্ছে।
মেলায় মাভাবিপ্রবির স্টল পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। এ সময় তিনি গবেষক ও উদ্ভাবকদের কাছ থেকে তাঁদের প্রকল্পের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন এবং উদ্ভাবনগুলোর ব্যবহারিক প্রয়োগ ও সম্ভাবনা নিয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি মেলায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষক, গবেষক ও উদ্ভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন।
‘Innovate to Market’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এবারের ইনোভেশন ফেয়ারে শুধু উদ্ভাবন প্রদর্শনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়নি; বরং গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব প্রয়োগ, শিল্পের সঙ্গে সংযোগ এবং বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে বাজারে নিয়ে যাওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাভাবিপ্রবির ছয়টি প্রকল্পের অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার পাশাপাশি গবেষকদের উদ্ভাবনী ধারণাকে শিল্প ও বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করার সুযোগ তৈরি করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। মেলার মাধ্যমে শিক্ষক ও গবেষকদের নতুন উদ্ভাবন সম্পর্কে দর্শনার্থী, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও জানার সুযোগ পাচ্ছেন।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!