ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলের হুদাইদাহ ও তাইজ প্রদেশের ছয়টি জেলা থেকে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীকে হটিয়ে প্রায় ৫ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এ দাবি করেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হুথি ও তাদের মিত্র ‘পপুলার কমিটি’র যোদ্ধারা বড় ধরনের সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দুই প্রদেশের ছয়টি জেলা থেকে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীকে সরিয়ে দেয়। হুথি মুখপাত্রের দাবি, অভিযানে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সাতটি ডিভিশন পরাজিত হয়েছে, যেগুলোর অধীনে ছিল ৩৮টি ব্রিগেড।

ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, সংঘর্ষে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর শত শত সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে হুথিদের হাতে বন্দি হয়েছেন। একই সঙ্গে ওই বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন বন্দীশালা থেকে বিপুলসংখ্যক বন্দিকেও মুক্ত করার দাবি করেন তিনি। এসব বন্দীকে অমানবিক পরিস্থিতিতে আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন হুথি মুখপাত্র।

হুথির বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট নিয়েও বিস্তারিত দাবি করেন সারি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ইউনিট ৩২টি অভিযান পরিচালনা করেছে এবং সৌদি বাহিনীর অনুপ্রবেশকারী নয়টি বিমান শনাক্ত করে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। এসব সামরিক দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বক্তব্যে ইয়াহিয়া সারি হুথি বাহিনীর নিহত ও দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। দেশ ও মাতৃভূমি রক্ষায় তাদের আত্মত্যাগের প্রশংসা করেন তিনি।

লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল নিয়েও নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে হুথিরা। সারি বলেন, সৌদি আরবের পণ্যবাহী জাহাজ ছাড়া অন্যান্য জাহাজের জন্য লোহিত সাগরের নৌপথ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। সৌদি আরবের জাহাজের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর থাকবে বলেও জানান তিনি।

হুথি মুখপাত্র আরও বলেন, ইয়েমেনের ওপর আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে এবং অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’ নীতি বজায় রাখবে। শর্ত পূরণ না হলে সৌদি সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে পাল্টা হামলার মাত্রাও বাড়ানো হবে বলে জানান সারি।

হুথি-নিয়ন্ত্রিত সানা সরকার চলতি বছরের ২০ জুলাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার কথা জানায়। ইয়েমেনের ওপর সৌদি-সমর্থিত অবরোধকে অন্যায় ও নিপীড়নমূলক উল্লেখ করে এর জবাবে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তখন জানানো হয়েছিল।

ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের সঙ্গে সৌদি আরব ও তার মিত্রদের সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা রয়েছে। ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত তৈরি হয়, যাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

তবে হুথিদের সর্বশেষ ভূখণ্ড দখল, হতাহত, বন্দি এবং বিমান ভূপাতিত করার দাবিগুলো গোষ্ঠীটির নিজস্ব বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে। স্বাধীন কোনো সূত্রে এসব দাবির পূর্ণাঙ্গ নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

সূত্র: প্রেস টিভি

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!