টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিন ও মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা মনিরুজ্জামান মনিরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ প্রকাশের পর স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষককে মারধরের ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
ঘটনাটি মির্জাপুর পৌরসভার বংশাই রোড এলাকার মারকাজুল উম্মা হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঘটেছে। সেখানে নাজেরা শাখায় পড়াশোনা করত শিশুটি। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, শিক্ষক আল আমিন ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুটিকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তার শারীরিক সমস্যার বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। চিকিৎসার জন্য তাকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের কাছে নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ করে শিশুটি। এরপর বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান স্বজনেরা।
শুক্রবার সকালে শিশুটির মা ও স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন। একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনা তৈরি হলে স্থানীয় লোকজনও জড়ো হন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষক আল আমিন ও মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মনিরুজ্জামান মনিরকে হেফাজতে নেয়।
পুলিশের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটির মা রুমি বেগম মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পরে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে এসেছে। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তারা শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন বলেও জানা গেছে।
পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে ভয় দেখানোর কারণে সে প্রথমদিকে বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেনি। অসুস্থতার কারণে বাড়িতে নেওয়ার পরও নির্যাতনের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না করায় পরিবারের সদস্যরা পরে চিকিৎসা ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পারেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিন অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি নির্দোষ। শিশুটির শারীরিক সমস্যার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়ার কথা তিনি স্বীকার করলেও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে আর প্রতিষ্ঠানে রাখা হবে না। তবে স্থানীয়দের ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি দাবি করেছেন, পরিস্থিতির মধ্যে তাকে ঘিরে ধরার কারণে তিনি ওই ধরনের কথা বলেছিলেন।
এ ঘটনায় পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি শিশুটির নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনায় কারও দায় রয়েছে কি না, তা তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। অভিযুক্ত শিক্ষক ও মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে এখনো অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনগত কার্যক্রম চলছে; আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যাবে না।
সূত্র: The Daily Ittefaq
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!