ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার উপজেলা ভূমি অফিসে অনুপস্থিত থাকা নামজারি খতিয়ান পুনঃসৃজন, যাচাই ও অনুমোদনের জন্য বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরম্যান্স (ডিকেএমপি) অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সচিবালয় থেকে জারি করা নির্দেশনায় স্বাক্ষর করেছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন কার্যক্রমের আওতায় ইউএনডিপি বাংলাদেশ কর্তৃক ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন ভূমি অফিসে ডেটা এন্ট্রিকালে অনেক নামজারি খতিয়ান অনুপস্থিত বা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নামজারি খতিয়ান না থাকায় সংশ্লিষ্ট ভূমির মালিকানা ও নামজারি সংক্রান্ত তথ্য অটোমেটেড ভূমিসেবা সিস্টেমে যথাযথভাবে এন্ট্রি ও সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না, যা ভূমিসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করছে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। যেসব ভূমি অফিসে কোনো নির্দিষ্ট নামজারি খতিয়ান পাওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু সংশ্লিষ্ট নামজারি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার প্রমাণ হিসেবে রেজিস্টার-২ ও ৯ (হোল্ডিং ও নামজারি রেজিস্টার) এবং নামজারির প্রস্তাবপত্র ও মামলার সংশ্লিষ্ট নথি বিদ্যমান রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে খতিয়ান পুনঃসৃজনের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় পাঁচ ধরনের পরিস্থিতির ভিত্তিতে করণীয় বিষয় নির্ধারণ করে দিয়েছে। প্রথম পরিস্থিতিতে নামজারির নথি ও স্বাক্ষরিত প্রস্তাবপত্র, রেজিস্টার-৯ ও রেজিস্টার-২ থাকলেও কিছু খতিয়ানের কপি না থাকলে সংশ্লিষ্ট নথি চিহ্নিত করে প্রস্তাবপত্র শনাক্ত করতে হবে এবং নামজারি মামলার নথির আদেশপত্র ও রেজিস্টার-৯-এর তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে সঠিকতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সন্দেহ দেখা দিলে ইউনিয়ন বা পৌর ভূমি অফিসে সংরক্ষিত রেজিস্টার-২-এর হোল্ডিংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করে খতিয়ান নম্বর সংগ্রহ করতে হবে। এরপর সব তথ্য যাচাই করে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী খতিয়ানটি সিস্টেমে এন্ট্রি, যাচাই ও ভেলিডেট করতে হবে।

দ্বিতীয় পরিস্থিতিতে নামজারির নথি ও স্বাক্ষরিত প্রস্তাবপত্র এবং রেজিস্টার-৯ থাকলেও কিছু খতিয়ানের কপি ও রেজিস্টার-২ না থাকলে প্রথম পরিস্থিতির নির্দেশনা অনুসরণ করে কার্যক্রম সম্পন্ন করে রেজিস্টার-২ হালনাগাদ করতে হবে। তৃতীয় পরিস্থিতিতে নামজারির খতিয়ান ও নথি পাওয়া না গেলেও রেজিস্টার-২ ও রেজিস্টার-৯ থাকলে রেজিস্টার-৯-এর তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করে খতিয়ান নম্বর সংগ্রহ করতে হবে এবং প্রথম পরিস্থিতির নির্দেশনা অনুযায়ী অবশিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

চতুর্থ পরিস্থিতিতে নামজারির খতিয়ান ও নথি পাওয়া না গেলে এবং রেজিস্টার-২-তে কোনো তথ্য না থেকে শুধু রেজিস্টার-৯ থাকলে কোনো সন্দেহ দেখা দিলে আর অগ্রসর না হয়ে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। প্রয়োজনে ভূমি মালিককে নোটিশ করে খতিয়ানের কপি দাখিল করতে বলা যেতে পারে। পঞ্চম পরিস্থিতিতে নামজারির খতিয়ান ও নথি কোনোটিই পাওয়া না গেলে এবং শুধু রেজিস্টার-২ থাকলে ভূমি উন্নয়ন কর নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে কি না তা জেনে নিয়ে ভূমি মালিককে নোটিশ করে কর পরিশোধ ও খতিয়ানের কপি দাখিলের জন্য বলা যেতে পারে বলে পরিপত্রে বলা হয়েছে।

পরিপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে, কোনো তথ্যের ক্ষেত্রে সন্দেহ, অসামঞ্জস্যতা বা ঘাটতি পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট নথি ও রেজিস্টার পুনরায় যাচাই করতে হবে এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট খতিয়ান পুনঃসৃজন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। এছাড়া এই কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন করে কোনো নামজারি অনুমোদন বা নতুন স্বত্ব সৃষ্টি করা যাবে না, বরং এটি পূর্বে অনুমোদিত নামজারির খতিয়ান পুনঃসৃজন হিসেবেই বিবেচিত হবে। যেসব ক্ষেত্রে খতিয়ান নম্বর পাওয়া যাবে না, সেসব ক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অধিশাখা-৩-এর গত ১৪ মে জারি করা ১২৮ নম্বর পরিপত্র অনুযায়ী নতুন খতিয়ান নম্বর প্রদান করতে হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিজ নিজ উপজেলা বা সার্কেল ভূমি অফিস এবং আওতাধীন ইউনিয়ন বা পৌর ভূমি অফিসে এই কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং পরিপত্র জারির দুই মাসের মধ্যে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হিসেবে খতিয়ান পুনঃসৃজনের কাজ সম্পন্ন করবেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জেলার বিভিন্ন ভূমি অফিসে পরিচালিত এই কার্যক্রমের সার্বিক তদারকি করবেন এবং প্রয়োজনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের অস্থায়ী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অতিরিক্ত জনবল দেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো, পূর্বে যেসব নামজারি সম্পন্ন হয়েছে কিন্তু বর্তমানে খতিয়ান পাওয়া যাচ্ছে না বা সংরক্ষিত নেই, সেসব নামজারি খতিয়ান বিদ্যমান তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পুনঃসৃজন করে অটোমেটেড ভূমিসেবা সিস্টেমে এন্ট্রি করা, যাতে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানকে যথাযথভাবে ভূমিসেবা প্রদান করা যায়। ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্মসচিব, ডিকেএমপি এই কার্যক্রমের সার্বিক সমন্বয় সাধন করবেন এবং প্রকল্প পরিচালক সিস্টেমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনয়ন বা ফিচার সংযোজনের ব্যবস্থা নেবেন।

জনস্বার্থে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে জানানো হয়েছে। নির্দেশনাটি তিন পার্বত্য জেলা ব্যতীত দেশের সব জেলা প্রশাসকের পাশাপাশি ভূমি আপিল বোর্ড, ভূমি সংস্কার বোর্ড, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর, সব বিভাগীয় কমিশনার, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্মসচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে। ডিজিটাল ভূমিসেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সরকার ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় ভূমি রেকর্ড অটোমেশনের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যার ধারাবাহিকতায় এই নির্দেশনা এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!