প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সেবা আরও বিস্তৃত করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পর্যায়ক্রমে ৪১টি দেশে এ সেবা সম্প্রসারণে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বর্তমানে ১৭টি দেশে অবস্থিত ২৭টি বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের টেবিলে উপস্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও এনআইডি সংক্রান্ত সেবা আরও দ্রুত, সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যেসব বাংলাদেশি মিশনে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু রয়েছে, সেখানে অনলাইনে আবেদন করার পাশাপাশি প্রবাসীদের সুবিধাজনক সময়ে বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের সুযোগ রয়েছে। আবেদন করার পর সেটির অগ্রগতিও অনলাইনে জানা যায়।

তিনি বলেন, দূতাবাসগুলো পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ করলেও পাসপোর্ট ঢাকায় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে ইস্যু করা হয়। এ কারণে দ্রুত পাসপোর্ট ডেলিভারি নিশ্চিত করতে বিদেশে থাকা বাংলাদেশি মিশনগুলো নিয়মিত সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে থাকে। পাসপোর্ট ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত হলে আবেদনকারীকে এসএমএস বা ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হয়।

এনআইডি সেবার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ১৭টি দেশে থাকা ২৭টি বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের কার্যক্রম চালু হয়েছে। প্রবাসীদের এনআইডির আবেদন দূতাবাসে গ্রহণ করা হলেও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করে নির্বাচন কমিশন। পর্যায়ক্রমে মোট ৪১টি দেশে এ সেবা চালুর লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

পাসপোর্ট সেবা আরও সহজ করতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বল্পমেয়াদি বিশেষ কর্মসূচি বা ক্র্যাশ প্রোগ্রামের আওতায় এসব দেশে থাকা বাংলাদেশি মিশনগুলোতে ঢাকা থেকে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কনস্যুলার সেবা সহজ করতে অনলাইন সত্যায়ন ও ই-অ্যাপোস্টিল ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সেবাপ্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করে ডিজিটাল সনদ নিতে পারছেন। এতে প্রবাসীদের সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি সরাসরি অফিসে গিয়ে সেবা নেওয়ার ভোগান্তিও কমছে বলে জানান মন্ত্রী।

এ ছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কর্মপরিকল্পনায় পাসপোর্ট, ভিসা এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদের তথ্য যাচাই সহজ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি অনলাইন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন সরকারি সেবার তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সমন্বিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রবাসীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি বাংলাদেশি মিশনে অনলাইন ‘গ্রিভ্যান্স রিড্রেস সিস্টেম’ চালু রয়েছে বলেও সংসদে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ, দ্রুত অভিযোগ সমাধান এবং সেবাগ্রহীতাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট, এনআইডি ও বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ৪১টি দেশে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ প্রবাসীদের নাগরিক সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!