বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশের আবহাওয়ায় বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির সঙ্গে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে। এ সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার সকাল ৯টার পরের ২৪ ঘণ্টাতেও দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। এ সময়ে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
বৃষ্টির এই পরিস্থিতির পেছনে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাব রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লঘুচাপটির প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে।
রাজধানী ঢাকাতেও শুক্রবার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকাসহ দেশের মধ্যাঞ্চলের কিছু এলাকায় দিনের বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া থাকলে নগরবাসীর চলাচলে সাময়িক ভোগান্তি তৈরি হতে পারে। ভারী বৃষ্টির সময় রাজধানীর নিচু সড়ক ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় পানি জমে যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিতে পারে।
এদিকে লঘুচাপের প্রভাবে শুধু স্থলভাগ নয়, দেশের উপকূলীয় এলাকাতেও আবহাওয়ার পরিস্থিতি কিছুটা অস্থির রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তাপমাত্রার ক্ষেত্রে শুক্রবার বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার কথা বলা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কোনো কোনো এলাকায় সাময়িক স্বস্তি এলেও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় বৃষ্টি থেমে গেলে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি থাকতে পারে।
আগামী দিনগুলোতেও বৃষ্টির প্রবণতা পুরোপুরি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। শনিবার খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এরপর রোববারও রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, শুক্রবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতের পরিস্থিতি তৈরি হলে খোলা জায়গা এড়িয়ে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা ও নৌযান সংশ্লিষ্টদের সমুদ্রবন্দরের সতর্কসংকেত অনুসরণ করে চলাচল করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (BMD)