দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবার বায়ার্ন মিউনিখের শুরুর একাদশে ফিরেই গোল করে প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে তুলেছেন জামাল মুসিয়ালা। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাতে আলিয়ানৎস অ্যারেনায় চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে নরওয়ের বোদো/গ্লিমটের বিপক্ষে শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন জার্মান তারকা। বিরতির পর মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে তার গোলেই বায়ার্ন ম্যাচের প্রথম সাফল্য পায়। শেষ পর্যন্ত মুসিয়ালার সেই গোলের পথ ধরে বায়ার্ন ৫–০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ইউরোপীয় আসরে দারুণ সূচনা করে।
ম্যাচটির আগে মুসিয়ালাকে ঘিরে বায়ার্ন সমর্থকদের মধ্যে ছিল বিশেষ আগ্রহ। কারণ মৌসুমের শুরুর দিকে শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি দলের নিয়মিত একাদশে থাকতে পারেননি। আগের সপ্তাহে শালকের বিপক্ষে মাঠে ফিরে তিনি ধীরে ধীরে ম্যাচের ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এরপর বোদো/গ্লিমটের বিপক্ষে ভিনসেন্ট কোম্পানি তাকে সরাসরি শুরুর একাদশে রাখেন। ফলে ম্যাচটি তার জন্য শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমের শুরু নয়, বরং নিজের সেরা ছন্দে ফেরার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও ছিল।
শুরু থেকেই বায়ার্ন বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করে। জোশুয়া কিমিখসহ বায়ার্নের একাধিক খেলোয়াড় প্রথমার্ধে সুযোগ তৈরি করেন, কিন্তু বোদো/গ্লিমটের রক্ষণ এবং গোলরক্ষক নিকিতা হাইকিনের প্রতিরোধে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা গোল পায়নি। প্রথম ৪৫ মিনিট শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়। বায়ার্নের আধিপত্য থাকলেও কাঙ্ক্ষিত গোল না পাওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধেই ম্যাচের গতি বদলানোর অপেক্ষা ছিল।
বিরতির পর সেই অপেক্ষা খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি। ৪৭তম মিনিটে মুসিয়ালা বায়ার্নকে এগিয়ে দেন। শুরুর একাদশে ফেরার ম্যাচে গোল করায় তার প্রত্যাবর্তন আরও বিশেষ হয়ে ওঠে। গোলের পর বায়ার্নের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় এবং বোদো/গ্লিমটের রক্ষণ ধীরে ধীরে ভেঙে পড়তে শুরু করে। মুসিয়ালার গোলটি ছিল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত, কারণ এর পর থেকেই বায়ার্ন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।
৬১তম মিনিটে হ্যারি কেইন হেডে বায়ার্নের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ৭৭তম মিনিটে আলফন্সো ডেভিস দূরপাল্লার শটে তৃতীয় গোল যোগ করেন। ম্যাচের শেষ ভাগে মাইকেল অলিসে আরও দুইবার জালে বল পাঠিয়ে বায়ার্নের জয়কে বড় করে তোলেন। ৮৩তম মিনিটে অলিসের প্রথম গোলের পর যোগ করা সময়ে তিনি নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। ফলে ৫–০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয়। ম্যাচের শেষদিকে বোদো/গ্লিমটের ওডিন বিয়োরটুফ লাল কার্ডও দেখেন।
চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্নের এই ফলাফল তাদের ধারাবাহিকতারও প্রমাণ। ম্যাচের প্রথমার্ধে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলেও বিরতির পর দ্রুত গোল পাওয়া দলের পরিকল্পনায় কার্যকর পরিবর্তন আনে। মুসিয়ালার গোলের পর প্রতিপক্ষকে আর স্বস্তি দেওয়া হয়নি। একের পর এক আক্রমণে বায়ার্ন মাঠের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে এবং শেষ পর্যন্ত পাঁচ গোলের ব্যবধানে ম্যাচ শেষ করে। মুসিয়ালার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও তাই দলের সামগ্রিক সাফল্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে থাকে। বিশেষ করে শুরুর একাদশে ফিরে প্রথম গোল পাওয়া তার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াতে পারে। সামনে বায়ার্নের ঘরোয়া ও ইউরোপীয় ব্যস্ত সূচিতে মুসিয়ালার পূর্ণ ফিটনেস এবং ধারাবাহিকতা দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এই জয়ে বায়ার্ন শুধু তিন পয়েন্টই পায়নি, বরং চ্যাম্পিয়নস লিগের শুরুতেই নিজেদের শক্তির বার্তা দিয়েছে। নতুন মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় প্রথম ম্যাচে বড় জয় পাওয়া দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আক্রমণভাগে মুসিয়ালা, কেইন ও অলিসেদের কার্যকর উপস্থিতি বায়ার্নের সামনে থাকা বড় লক্ষ্যগুলোর জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে।
মুসিয়ালার জন্য অবশ্য এই ম্যাচের গুরুত্ব আরও বেশি। দীর্ঘ বিরতির পর শুরুর একাদশে ফিরে গোল করা তার শারীরিক ও মানসিকভাবে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার বড় ইঙ্গিত। ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি তিনি বায়ার্নের আক্রমণভাগে গতিশীলতা ও সৃজনশীলতা যোগ করেন। তাকে বদলি করার সময় কোচ কোম্পানির সঙ্গে তার আবেগঘন মুহূর্তও সমর্থকদের নজর কেড়েছে।
সব মিলিয়ে বোদো/গ্লিমটের বিপক্ষে ৫–০ জয় বায়ার্নের জন্য যেমন দুর্দান্ত শুরু, তেমনি মুসিয়ালার জন্যও প্রত্যাবর্তনের একটি স্মরণীয় অধ্যায়। শুরুর একাদশে ফেরার পরপরই গোল করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, নিজের ছন্দ ফিরে পাওয়ার পথে তিনি ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ পেরিয়ে এসেছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের এই পারফরম্যান্স তাই বায়ার্নের জয়ের পাশাপাশি মুসিয়ালার ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তনের গল্প হিসেবেও আলাদা গুরুত্ব বহন করছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!