আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ হিসেবে লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর তাঁর চুক্তি নবায়নের বিষয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা এএফএ আশাবাদী থাকলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। স্কালোনির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ফলে বছরের শেষের আগেই তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর স্কালোনি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, তিনি চলতি বছরের দায়িত্ব শেষ করবেন এবং এরপর বিষয়টি নিয়ে ভাববেন। সেই বক্তব্যের পর থেকেই তাঁর সম্ভাব্য বিদায় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এএফএর পক্ষ থেকে তাঁকে ধরে রাখার আগ্রহ আরও স্পষ্ট হলেও স্কালোনির দিক থেকে এখনো এমন কোনো সংকেত আসেনি, যাতে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত বলা যায়।
এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া শুরু থেকেই স্কালোনিকে ধরে রাখার ব্যাপারে জোরালো অবস্থানে আছেন। আগস্টে তিনি প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, তাঁর পরিকল্পনার প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিকল্পই স্কালোনি। অর্থাৎ আর্জেন্টিনা ফুটবলের শীর্ষ নেতৃত্ব অন্য কোনো কোচ খোঁজার চেয়ে বর্তমান কোচকেই নতুন প্রকল্পের দায়িত্ব দিতে বেশি আগ্রহী। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে স্কালোনির নিজের ইচ্ছার ওপর।
স্কালোনির দ্বিধার পেছনে সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে উঠেছে একটি সফল যুগের পর নতুন করে দল গড়ার চ্যালেঞ্জ। ২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ধীরে ধীরে আর্জেন্টিনাকে পুনর্গঠন করেন এবং দলটিকে কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা ও বিশ্বকাপের মতো বড় সাফল্য এনে দেন। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তাঁর অধীনে আর্জেন্টিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। এরপর ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকাও জেতে দলটি। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা।
তবে এবার পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে। জাতীয় দল থেকে লিওনেল মেসির অধ্যায় শেষ হওয়ার পর আর্জেন্টিনাকে নতুন নেতৃত্ব ও নতুন ভারসাম্যের দিকে যেতে হবে। দীর্ঘদিনের সফল দলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ফলে শুধু একজন কোচ হিসেবে নয়, পুরো প্রকল্পকে নতুন করে সাজানোর দায়িত্ব নিতে হবে স্কালোনিকে। এই কারণেই তিনি মানসিকভাবে আবার সেই বড় পুনর্গঠনের কাজে নিজেকে প্রস্তুত মনে করছেন কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল দলীয় ঐক্য, ধারাবাহিকতা এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা। তাই তাঁর সম্ভাব্য বিদায় শুধু কোচ পরিবর্তনের বিষয় হবে না; এটি একটি দীর্ঘ সফল প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলবে। এএফএ চাইছে, নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সঙ্গে অভিজ্ঞদের সমন্বয় করে আবারও প্রতিযোগিতামূলক দল গড়ে তুলতে স্কালোনিই নেতৃত্ব দিন। অন্যদিকে স্কালোনি দায়িত্ব নিলে তাঁকে মেসিকে ছাড়া নতুন নেতৃত্বের কাঠামো তৈরি, তরুণদের জায়গা দেওয়া এবং আগের সাফল্যের প্রত্যাশা সামলানোর কঠিন কাজ করতে হবে।
এদিকে এএফএর ভেতরে স্কালোনিকে ঘিরে আশাবাদ পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। জুনে দুই পক্ষের মধ্যে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তি বাড়ানোর বিষয়ে মৌখিক সমঝোতার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়নি। বিশ্বকাপের পর পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় সেই সম্ভাবনাও এখন নিশ্চিত নয়। সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কালোনির প্রতিনিধি মাতিয়াস আলদাও এবং তাপিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এখনো বাকি রয়েছে। সেখানে সমঝোতা হলে পুরোনো পরিকল্পনা আবার এগিয়ে যেতে পারে।
সময়ও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্বকাপের পর প্রথম আন্তর্জাতিক বিরতি ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত হওয়ার কথা, আর নভেম্বরেও আরেকটি আন্তর্জাতিক উইন্ডো রয়েছে। এই ম্যাচগুলোর পরিকল্পনা করতে হলে কোচিং কাঠামো নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। তবু এএফএ তাড়াহুড়ো করে স্কালোনির ওপর চাপ তৈরি করতে চাইছে না। বরং তাঁকে সময় দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এই মুহূর্তে তাই স্কালোনির অবস্থানকে বিদায় বা নিশ্চিত নবায়ন—কোনোটিই বলা যাচ্ছে না। আর্জেন্টিনা তাঁকে রাখতে চায়, আর স্কালোনি নতুন করে একটি দল গড়ার শক্তি ও ইচ্ছা নিয়ে ভাবছেন। শেষ পর্যন্ত আলোচনার ফল এবং তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তই ঠিক করবে, মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনার নতুন অধ্যায়েও ডাগআউটে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কোচকে দেখা যাবে কি না।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!