ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে সাজসজ্জা ও নিরাপত্তার পাশাপাশি বিদেশি অতিথিদের আতিথেয়তায়ও বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে দিল্লির বিলাসবহুল হোটেলগুলো। ভারত এবার ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের স্বাগত জানাবেন।

ভারত মণ্ডপমে মূল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিশ্বনেতা ও প্রতিনিধিদের আতিথেয়তার বড় আয়োজন চলছে দিল্লির বিভিন্ন পাঁচতারকা হোটেলে। ভারতীয় ঐতিহ্য, স্থানীয় খাবার এবং আন্তর্জাতিক রন্ধনশৈলীর সমন্বয়ে অতিথিদের জন্য বিশেষ মেনু তৈরি করেছে দ্য লিলা প্যালেস, তাজমহল ও দ্য ললিতের মতো হোটেলগুলো।

তাজমহল হোটেল, নয়াদিল্লি

ব্রিকসের অতিথিদের জন্য তাজমহল হোটেল বিশেষভাবে আয়োজন করেছে ‘ট্র্যাডিশন টু টেবিল’ নামের একটি রন্ধন আয়োজন। এতে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবার তুলে ধরা হবে। হোটেলটির শেফরা নিজেদের মায়েদের কাছ থেকে শেখা রেসিপি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এসব পদ তৈরি করেছেন।

বিশেষ এই আয়োজনে ভারতের ছয়টি অঞ্চলের খাবার স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কাশ্মীরের মশলাযুক্ত আখরোট, পুরোনো দিল্লির ময়দা কাজু, মহারাষ্ট্রের বাকরবাড়ি, রাজস্থানের মিনি কচুরি, বাংলার কুচো নিমকি এবং তামিলনাড়ুর মুচমুচে মুরুক্কু।

খাবারের মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের স্বতন্ত্র স্বাদ ও ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি বিদেশি অতিথিদের সামনে দেশটির পারিবারিক রান্নার সংস্কৃতিও তুলে ধরতে চাইছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।

দ্য লিলা প্যালেস, নয়াদিল্লি

দ্য লিলা প্যালেসে অতিথিদের স্বাগত জানাতে থাকছে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে তৈরি বিশেষ খাবার। হোটেলটি ভারতের জাতীয় ফুল পদ্ম এবং ব্রিকস ইন্ডিয়া ২০২৬-এর প্রতীকের ভাবনা মিলিয়ে একটি ভোজ্য হস্তনির্মিত পদ্মফুল তৈরি করেছে।

গোলাপি গোলাপ, জাফরান, এলাচ এবং বিভিন্ন দেশীয় ফলের নির্যাস ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এই বিশেষ পদটি। এটি শুধু খাবার হিসেবে নয়, অতিথিদের সামনে ভারতের সাংস্কৃতিক প্রতীক ও সৃজনশীলতার একটি নিদর্শন হিসেবেও উপস্থাপন করা হবে।

এর পাশাপাশি প্রতিনিধিদের জন্য রাখা হয়েছে মিলেট বা ক্ষুদ্র শস্য দিয়ে তৈরি বিশেষ কুকিজ, হাতে তৈরি গ্রানোলা বার এবং বিভিন্ন ধরনের ভেষজ পানীয়। স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আন্তর্জাতিক অতিথিদের আগ্রহের বিষয়টিও এসব আয়োজনের মাধ্যমে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

দ্য ললিত, নয়াদিল্লি

দ্য ললিত হোটেলও ব্রিকস সম্মেলনের অতিথিদের জন্য তৈরি করেছে বিশেষ খাবারের মেনু। সেখানে ভারতীয় আঞ্চলিক খাবারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক রন্ধনশৈলীর সমন্বয় করা হয়েছে।

মেনুতে রয়েছে গালৌটি কাবাব, তন্দুরি রুটির মতো পরিচিত ভারতীয় খাবার। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কথা বিবেচনায় রেখে মিলেটের তৈরি বিভিন্ন পদও রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অতিথিদের স্বাদের বৈচিত্র্য মাথায় রেখে ভারতীয় খাবারের বাইরে বেশ কিছু পদও যুক্ত করেছে হোটেলটি। এর মধ্যে রয়েছে মিসো পেস্ট দিয়ে তৈরি ব্রেইজড এগপ্ল্যান্ট, সিমার্ড চাইনিজ ক্যাবেজ এবং অ্যাম্বার সসের সঙ্গে জাপানি স্টাইলের কিডনি বিন সুইট।

ব্রিকস সম্মেলনে ব্রাজিল, রাশিয়া, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সদস্য দেশগুলোর নেতারা অংশ নেবেন। পাশাপাশি অংশীদার দেশগুলোর প্রতিনিধিদেরও সম্মেলনে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ফলে বিভিন্ন দেশের অতিথিদের খাবারের পছন্দ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিবেচনায় নিয়ে আতিথেয়তার পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

বড় কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে খাবার শুধু অতিথিদের আপ্যায়নের বিষয় নয়, আয়োজক দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দিল্লির হোটেলগুলোর এবারের আয়োজনেও সেই বিষয়টি বিশেষভাবে ফুটে উঠছে। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পদ যুক্ত করে অতিথিদের সামনে দেশটির বৈচিত্র্যময় খাদ্যসংস্কৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ফলে ব্রিকসের মূল বৈঠক যেখানে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, তার বাইরে দিল্লির বিলাসবহুল হোটেলগুলোতে ভারতীয় ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যময় খাবারের মাধ্যমে চলবে আরেক ধরনের কূটনৈতিক আয়োজন।

সূত্র- এনডিটিভি

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!