সরকারি হাট-বাজার, জলমহালসহ বিভিন্ন সায়রাত মহালের সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। ‘বিবিধ সায়রাত মহাল সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা’ নামে নীতিমালাটি ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ের প্রকাশিত অতিরিক্ত গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক নম্বর ৩১.০০.০০০০.০০০.০৫১.৬৮.০০০৮.২২.৩৬০-এর অধীনে নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়। গেজেটে এর পৃষ্ঠাসীমা ২১৯৬৩ থেকে ২১৯৮২।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা তালিকাতেও ‘বিবিধ সায়রাত মহাল সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা’ নামে এটি ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে নীতিমালাটি আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সায়রাত মহাল বলতে সরকারের রাজস্ব আয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সম্পদ ও ইজারাযোগ্য সম্পত্তিকে বোঝানো হয়। এর মধ্যে জলমহাল, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন ধরনের সরকারি সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদ সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা, ইজারা এবং রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম সরাসরি যুক্ত।

নতুন নীতিমালার মাধ্যমে এসব সায়রাত মহালের সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে সায়রাত মহাল হিসেবে বিবেচিত সম্পদের তালিকা সংরক্ষণ, ইজারা এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনার কাজ পরিচালিত হয়ে আসছিল। নতুন নীতিমালা এসব কার্যক্রমকে আরও নিয়মতান্ত্রিক ও সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনার একটি উদ্যোগ হিসেবে এসেছে।

সায়রাত মহালের মধ্যে জলজ সম্পদ দেশের অর্থনীতি ও স্থানীয় জীবিকার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০২৫ সালে নীতিমালার খসড়া চূড়ান্তকরণ নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সচিব বলেছিলেন, জলজ সম্পদ আহরণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক কার্যক্রমের মাধ্যমে সায়রাত মহাল রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও খাদ্য চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছে।

খাল, বিল, হাওর, বাওড় ও অন্যান্য জলাশয় দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের অংশ হওয়ায় এসব সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা শুধু সরকারি রাজস্বের বিষয় নয়, পরিবেশ ও স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গেও সম্পর্কিত। ফলে সরকারি সম্পদের যথাযথ সংরক্ষণ এবং ইজারা ব্যবস্থাপনায় নিয়মতান্ত্রিকতা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন নীতিমালার আওতায় সায়রাত মহালের ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কাঠামোবদ্ধ করার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে সরকারি সম্পদের তালিকা, সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও সমন্বয় আরও স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকারি সায়রাত মহাল ইজারার প্রচলিত ব্যবস্থায় জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কমিটি আবেদন যাচাই-বাছাই, ইজারা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং চুক্তি সম্পাদনের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। বিভিন্ন জেলার সরকারি ইজারা বিজ্ঞপ্তিতেও জেলা জলমহাল ও বিবিধ সায়রাত মহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালনার নজির রয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ার ফলে সরকারি হাট-বাজার, জলমহাল এবং অন্যান্য সায়রাত মহালের ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পত্তির সংরক্ষণ ও ব্যবহারকে আরও নিয়মতান্ত্রিক করার মাধ্যমে এসব সম্পদ থেকে রাজস্ব আদায় কার্যকর করার পথও সুগম হতে পারে।

নীতিমালাটি ২০ পৃষ্ঠার গেজেট হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে এর বিভিন্ন ধারা ও উপধারায় সায়রাত মহালের ধরনভেদে কী কী নিয়ম, দায়িত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এবং ইজারা সংক্রান্ত বিধান রাখা হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে নীতিমালার পূর্ণাঙ্গ পাঠে জানা যাবে। সরকারি মুদ্রণালয়ের গেজেট তালিকায় নীতিমালাটির প্রকাশনা এবং পৃষ্ঠাসীমা নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি রাজস্ব-সংশ্লিষ্ট সম্পদের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়াতে এই নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সায়রাত মহাল ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে একটি অভিন্ন নীতিমালার আওতায় আনার ফলে মাঠপর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরও সুসংগঠিত কাঠামো তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!