গাড়ি বা মোটরসাইকেল কেনাবেচার পর অনেকেই সময়মতো মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। আবার কখনো একটি মোটরসাইকেল একাধিকবার হাতবদল হলেও বিআরটিএর নথিতে আগের মালিকের নামই থেকে যায়। পরে দুর্ঘটনা, মামলা, জরিমানা বা অন্য কোনো আইনি জটিলতা তৈরি হলে তখন বিষয়টি বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিআরটিএর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, মোটরযানের মালিকানা পরিবর্তনের জন্য ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষের নির্দিষ্ট কাগজপত্র ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। ক্রেতার জন্য টিও ও টিটিও ফরম, ফি জমার রসিদ, মূল রেজিস্ট্রেশন সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং বিক্রেতার জন্য টিটিও ফরম, বিক্রয় রশিদ ও বিক্রয় হলফনামাসহ সংশ্লিষ্ট নথি প্রয়োজন হয়।

তাই গাড়ি বা বাইক বিক্রি করার পর শুধু চাবি ও কাগজপত্র বুঝিয়ে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। নিজের স্বার্থ সুরক্ষায় লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষণ এবং মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি দ্রুত সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ।

কেউ গাড়ি বিক্রি করার পরও ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তনে সহযোগিতা না করলে প্রথমে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে রাখতে পারেন। জিডিতে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিক্রির তারিখ, ক্রেতার পরিচয় ও ঠিকানা জানা থাকলে তা এবং কখন গাড়ির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে—এসব তথ্য উল্লেখ করা যেতে পারে। বিক্রয় চুক্তি, হলফনামা, বিক্রয় রশিদ এবং অর্থ লেনদেনের প্রমাণ থাকলে সেগুলোর কপিও সংরক্ষণ করা উচিত।

তবে জিডি করলেই ভবিষ্যতে ওই গাড়ি নিয়ে সব ধরনের আইনি দায় থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুক্তি পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। কোনো দুর্ঘটনা বা অপরাধের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে। তাই বিক্রির প্রমাণ এবং গাড়ি হস্তান্তরের তারিখ-সংক্রান্ত নথি সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রেতা বা নিবন্ধিত মালিককে আনুষ্ঠানিকভাবে মালিকানা পরিবর্তনের জন্য তাগাদা দিতে চাইলে আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো যেতে পারে। রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিশ পাঠালে ডাক রসিদ, নোটিশের কপি এবং প্রাপ্তির প্রমাণ সংরক্ষণ করা উচিত। এতে পরবর্তী কোনো আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজন হলে লেনদেনের বিষয়ে নথি হিসেবে এগুলো কাজে লাগতে পারে।

এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ সার্কেল অফিসে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো যেতে পারে। আবেদনের সঙ্গে গাড়ি বিক্রির প্রমাণ, চুক্তিনামা বা হলফনামা এবং থানায় করা জিডির কপি দেওয়া যেতে পারে। তবে শুধু আবেদন করলেই গাড়ির রেজিস্ট্রেশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হয়ে যাবে বা কর-সংক্রান্ত সব দায় বন্ধ হয়ে যাবে—এমন তথ্য বিআরটিএর প্রকাশিত মালিকানা বদলি সংক্রান্ত নির্দেশনায় পাওয়া যায় না। তাই এ ধরনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ অফিসের কাছ থেকে লিখিত নির্দেশনা নেওয়া নিরাপদ।

মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিআরটিএর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিআরটিএর সেবা পোর্টালে মালিকানা বদলির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা দেওয়া আছে। সেখানে ক্রেতার জন্য টিও ও টিটিও ফরম, প্রয়োজনীয় ফি জমার রসিদ, মূল রেজিস্ট্রেশন সনদ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অন্যান্য নথির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিক্রেতার জন্য টিটিও ফরম ও বিক্রয় রশিদে স্বাক্ষর এবং বিক্রয় হলফনামার কথাও বলা হয়েছে।

বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টালেও মোটরযান মালিক, বিক্রেতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য অনলাইন সেবা এবং ফি পরিশোধের সুবিধা রয়েছে। ফলে মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আগে থেকেই তথ্য নিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা সম্ভব।

গাড়ি বা মোটরসাইকেল একাধিকবার হাতবদল হয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এ ক্ষেত্রে যার কাছে বর্তমানে গাড়িটি রয়েছে, তার সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি পূর্বের বিক্রয় দলিল, রসিদ, হলফনামা ও অন্যান্য নথির ধারাবাহিকতা খুঁজে বের করা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে বিআরটিএ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো যেতে পারে।

সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো, গাড়ি বা মোটরসাইকেল বিক্রির দিনই ক্রেতাকে সঙ্গে নিয়ে মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করা। বিক্রয় রশিদ, চুক্তিনামা, হলফনামা, টাকা লেনদেনের প্রমাণ এবং গাড়ি হস্তান্তরের তারিখসহ প্রয়োজনীয় সব নথির কপি নিজের কাছে রাখা উচিত। এতে ভবিষ্যতে গাড়িটি নিয়ে কোনো বিরোধ বা আইনি জটিলতা তৈরি হলে নিজের অবস্থান প্রমাণ করা তুলনামূলক সহজ হবে।

নোট: গাড়ি বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তনের নির্দিষ্ট সময়সীমা ও শাস্তির বিষয়ে প্রচলিত বিভিন্ন অনলাইন লেখায় ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। তাই নির্দিষ্ট ধারা বা জরিমানার অঙ্ক উল্লেখ করার আগে সংশ্লিষ্ট আইনের সর্বশেষ সরকারি পাঠ ও বিআরটিএর নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন। বিআরটিএর বর্তমান অনলাইন মালিকানা বদলি নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে দেওয়া আছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!