প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খান বিএনপির নেত্রী রুমিন ফারহানাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্য ও আগের অবস্থানের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে তার কিছু বক্তব্যকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বয়ানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খান।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে রাশেদ খান লেখেন, ‘রুমিন ফারহানা আপার মধ্যে শেখ হাসিনার ছায়া দেখা যায়।’ তিনি দাবি করেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসাইনের ফেসবুক পোস্টের সঙ্গে রুমিন ফারহানার কিছু পোস্টের পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায় না। এ প্রসঙ্গে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে রুমিন ফারহানাকে জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের ‘একমাত্র যোগ্য প্রতিনিধি’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

রাশেদ খান আরও দাবি করেন, রুমিন ফারহানা সম্প্রতি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা তার অতীত রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে দেওয়া রুমিন ফারহানার বক্তব্য এবং সাম্প্রতিক বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তার পোস্টে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। রাশেদ খান দাবি করেন, রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির উৎসাহ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অতীতে সংসদে বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াতের এমপিদের আচরণের প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে তার তুলনা করেন।

পোস্টে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে শফিকুল ইসলাম মাসুদ যে প্রসঙ্গ তুলেছেন, তা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়কার রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। ওই সময় জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় ছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে রাশেদ খান দাবি করেন, জাতীয় সংসদে জামায়াতের এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এনসিপির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বয়ানের সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে। তবে এটি তার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও মন্তব্য; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত কি না, তা পোস্টে উল্লেখ নেই।

রাশেদ খানের পোস্টে রুমিন ফারহানা ও হাসনাত আব্দুল্লাহর পুরোনো বাকযুদ্ধের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে রুমিন ফারহানা হাসনাত আব্দুল্লাহকে ‘ফকিন্নির বাচ্চা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন—সেই অবস্থান কি তিনি ভুলে গেছেন?

এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে রুমিন ফারহানা ও হাসনাত আব্দুল্লাহর মধ্যে প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। হাসনাত আব্দুল্লাহ রুমিন ফারহানাকে ‘বিএনপির আওয়ামী লীগবিষয়ক অন্যতম সম্পাদক’ বলে মন্তব্য করার পর রুমিন ফারহানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘ফকিন্নির বাচ্চা’ বলে উল্লেখ করেন। পরে একটি টেলিভিশন টকশোতে রুমিন ফারহানা বলেন, ওই শব্দগুচ্ছ দিয়ে তিনি কারও আর্থিক অবস্থাকে বোঝাননি; বরং একটি নির্দিষ্ট মানসিকতা বা চিন্তাধারাকে বোঝাতে শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

রাশেদ খানের সাম্প্রতিক পোস্টে মূলত রুমিন ফারহানার রাজনৈতিক বক্তব্য, অতীত অবস্থান এবং বিভিন্ন দলের নেতাদের বক্তব্যের মধ্যে তুলনা টানা হয়েছে। তবে পোস্টে করা অভিযোগ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণগুলো রাশেদ খানের নিজস্ব বক্তব্য; এ বিষয়ে রুমিন ফারহানার তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!