স্তন ক্যানসারের নির্দিষ্ট একটি ধরন নিয়ন্ত্রণে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) ক্যামিজেস্ট্র্যান্ট নামের একটি মুখে খাওয়ার ওষুধকে নির্দিষ্ট রোগীদের চিকিৎসায় অনুমোদন দিয়েছে। অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি ওষুধটি যুক্তরাষ্ট্রে ‘এটকামাহ’ (Etcamah) নামে বাজারজাত হবে। ৪ সেপ্টেম্বর এফডিএ এ অনুমোদন দেয়।

তবে নতুন এই ওষুধকে সব ধরনের স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এফডিএর অনুমোদন অনুযায়ী, এটি প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের হরমোন রিসেপ্টর-পজিটিভ (HR-positive), HER2-নেগেটিভ, স্থানীয়ভাবে অগ্রসর বা শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়া স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে। বিশেষ করে চিকিৎসার সময় ক্যানসারে ESR1 জিনের মিউটেশন শনাক্ত হলে এই ওষুধ ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ক্যামিজেস্ট্র্যান্ট একটি মুখে খাওয়ার ইস্ট্রোজেন রিসেপ্টর অ্যান্টাগনিস্ট। এটি ইস্ট্রোজেন রিসেপ্টরকে লক্ষ্য করে কাজ করে এবং হরমোনের মাধ্যমে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ও টিকে থাকার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে। ফলে নির্দিষ্ট হরমোন-নির্ভর স্তন ক্যানসারে রোগের অগ্রগতি বিলম্বিত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নতুন ওষুধটির বিশেষত্ব হলো, এটি শুধু একা দেওয়ার জন্য অনুমোদিত হয়নি। এফডিএর অনুমোদন অনুযায়ী, ক্যামিজেস্ট্র্যান্টকে CDK4/6 inhibitor-এর সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাবেমাসিক্লিব, পালবোসিক্লিব অথবা রিবোসিক্লিব। চিকিৎসার সময় রোগীর ক্যানসারে ESR1 মিউটেশন শনাক্ত করতে এফডিএ অনুমোদিত একটি পরীক্ষাও ব্যবহার করা হবে।

এখানে ESR1 মিউটেশন গুরুত্বপূর্ণ। অ্যারোমাটেজ ইনহিবিটরসহ হরমোনভিত্তিক চিকিৎসার সময় কিছু ক্যানসার কোষে এই মিউটেশন তৈরি হতে পারে। এর ফলে আগের চিকিৎসার বিরুদ্ধে ক্যানসারের প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নতুন চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা দেওয়ার আগেই রক্ত পরীক্ষায় ক্যানসার কোষের ডিএনএ থেকে এই মিউটেশন শনাক্ত করে চিকিৎসার ধরন পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়।

SERENA-6 নামের তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় ৩১৫ জন রোগীকে নিয়ে ক্যামিজেস্ট্র্যান্টের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়। গবেষণায় ক্যামিজেস্ট্র্যান্ট ও CDK4/6 inhibitor নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে রোগের অগ্রগতি ছাড়াই থাকার মধ্যম সময় ছিল ১৬ মাস। অন্যদিকে আগের অ্যারোমাটেজ ইনহিবিটর ও CDK4/6 inhibitor চালিয়ে যাওয়া গ্রুপে এই সময় ছিল ৯ দশমিক ২ মাস।

এফডিএ জানিয়েছে, ক্যামিজেস্ট্র্যান্টের সুপারিশকৃত মাত্রা ৭৫ মিলিগ্রাম, দিনে একবার। খাবারের সঙ্গে বা খাবার ছাড়াই এটি খাওয়া যায়। রোগের অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত বা অসহনীয় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা না দেওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে কোন রোগীর জন্য এই চিকিৎসা উপযুক্ত, তা ক্যানসারের ধরন, মিউটেশনের উপস্থিতি, আগের চিকিৎসা ও রোগীর সামগ্রিক অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।

তবে ওষুধটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিও রয়েছে। এফডিএর অনুমোদনপত্রে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের সঙ্গে ব্যবহার করলে হৃদ্‌যন্ত্রের ছন্দে সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। হৃদ্‌স্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে ধীর হয়ে যাওয়া এবং গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতির আশঙ্কার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।

এফডিএর এই অনুমোদনটি ‘অ্যাক্সিলারেটেড অ্যাপ্রুভাল’ পদ্ধতিতে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রাথমিক গবেষণায় রোগের অগ্রগতি নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য সুবিধা পাওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদি ক্লিনিক্যাল সুবিধা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। এফডিএ জানিয়েছে, অনুমোদন বহাল রাখতে ভবিষ্যৎ নিশ্চিতকারী গবেষণায় এর ক্লিনিক্যাল উপকারিতা যাচাই করতে হবে।

ফলে নতুন ওষুধটি স্তন ক্যানসার চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন বিকল্প হলেও এটিকে ‘ট্যাবলেট খেলেই স্তন ক্যানসার ভালো হয়ে যাবে’—এমনভাবে দেখার সুযোগ নেই। বরং নির্দিষ্ট জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের ক্যানসারে প্রচলিত হরমোনভিত্তিক চিকিৎসার সঙ্গে নতুন একটি লক্ষ্যভিত্তিক পদ্ধতি যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।