নওগাঁর মান্দায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২৫০ লিটার ওয়াশ চোলাইমদসহ সুকুমার প্রাং (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার নুরুল্যাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ নুরুল্যাবাদ ঋষিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ ওয়াশ চোলাইমদ উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মান্দা থানার একটি পুলিশ দল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য জোতবাজার এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, দক্ষিণ নুরুল্যাবাদ ঋষিপাড়া গ্রামের গায়িত্রী রানী (৪৪)-এর বসতবাড়ির পেছনে টিউবওয়েলের পাড়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে।
গোপন সংবাদের বিষয়টি যাচাই করে দ্রুত সেখানে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ। পরে মান্দা থানা পুলিশের একটি দল দক্ষিণ নুরুল্যাবাদ ঋষিপাড়া এলাকায় গিয়ে কথিত ওই স্থানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার আগেই ঘটনাস্থল থেকে সুকুমার প্রাংকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার সুকুমার প্রাং দক্ষিণ নুরুল্যাবাদ ঋষিপাড়া গ্রামের মৃত নিপেন্দ্রনাথ প্রাংয়ের ছেলে। অভিযান শেষে তার হেফাজত থেকে ২৫০ লিটার ওয়াশ চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ বিধি অনুযায়ী উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য জব্দ করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য বিক্রির উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মাদকদ্রব্যগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক কেনাবেচা চলছিল কি না, সেসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় সুকুমার প্রাংয়ের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মান্দা থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলার পর তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশের এই অভিযানের ফলে স্থানীয়ভাবে মাদকবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গ্রামাঞ্চলে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে মাদকদ্রব্যের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি রয়েছে স্থানীয়দের।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মাদক সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযানে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও তথ্য ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ঘটনাটিতে পুলিশের অভিযানের সময়, স্থান, গ্রেপ্তার ব্যক্তি এবং উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ সম্পর্কে পুলিশ যে তথ্য দিয়েছে, তার ভিত্তিতেই মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!