বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসি স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের (সেগুন্দা দিভিসিওন) ক্লাব এলদেন্সে কিনে নেওয়ার জন্য একটি মৌখিক চুক্তিতে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম দিয়ারিও আসের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে মেসি শিগগিরই ক্লাবটির শতভাগ শেয়ার কিনে নিতে পারেন এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

এই চুক্তি কীভাবে হলো, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। মেসির আইনি দল কলম্বিয়ার বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান টিএইচ-এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল, যার নেতৃত্বে আছেন হুয়ান কার্লোস ত্রুহিয়ো। এই প্রতিষ্ঠানটি এক বছর আগে পাসকুয়াল পেরেসের কাছ থেকে ক্লাবের মালিকানা কিনে নিয়েছিল। তবে চুক্তিটি এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। এখন এই চুক্তি যথাযথ পর্যালোচনার (ডিউ ডিলিজেন্স) মধ্য দিয়ে যাবে এবং একে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন করতে স্পেনের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (সিএসডি) অনুমোদনও প্রয়োজন হবে।

কেন মেসি এই ক্লাবটি কিনতে আগ্রহী হলেন, তার পেছনে রয়েছে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পর ফুটবল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান মেসি, আর সে লক্ষ্যেই তিনি এলদেন্সের সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডার হতে চলেছেন। ক্লাবটি স্পেনের আলিকান্তে প্রদেশের এলদা শহরে অবস্থিত, যা কাতালোনিয়ার কাছাকাছি একটি এলাকা— আর অবসরের পর মেসি সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করার পরিকল্পনা করছেন।

এটাই স্পেনের ফুটবলে মেসির প্রথম বিনিয়োগ নয়। এ বছরের শুরুতে তিনি বার্সেলোনার পঞ্চম বিভাগের ক্লাব উয়ে কোর্নিয়া কিনে নিয়েছিলেন। তবে কোর্নিয়া এখনো আধা-পেশাদার পর্যায়ে রয়ে গেছে, আর এলদেন্স হবে স্পেনে তাঁর প্রথম পূর্ণ পেশাদার ক্লাব বিনিয়োগ। এই দুটি ক্লাব ছাড়াও মেসির ফুটবল সাম্রাজ্যে যুক্ত আছে তাঁর ভাই মাতিয়াস মেসির পরিচালনাধীন আর্জেন্টিনার ক্লাব লেওনেস দে রোসারিও এবং বন্ধু লুইস সুয়ারেসের সঙ্গে উরুগুয়ের ক্লাব দেপোর্তিভো এলএসএম-এ তাঁর অংশীদারত্ব।

এলদেন্স ক্লাবের ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা নিয়েও কিছু তথ্য উঠে এসেছে। ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাব স্পেনের শীর্ষ দুই বিভাগের বাইরেই বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছে। ২০২৩ সালে ১৯৬৪ সালের পর প্রথমবারের মতো তারা দ্বিতীয় বিভাগে উঠে আসে, ২০২৫ সালে অবনমিত হয় এবং এই গ্রীষ্মে আবার ফিরে আসে। মাঠের পারফরম্যান্স অবশ্য মোটেও ভালো যাচ্ছে না। এ মৌসুমে চারটি ম্যাচের একটিতেও জিততে না পারায় সপ্তাহের শুরুতেই কোচ ক্লদিও বারাগানকে বরখাস্ত করা হয়েছে, এবং ক্লাবটি এখনো নতুন কোচ নিয়োগ করেনি।

চুক্তির আর্থিক দিক এখনো অস্পষ্ট। লেনদেনের আর্থিক শর্তাবলি প্রকাশ্যে জানানো হয়নি, তবে মেসি কোনো তৃতীয় পক্ষের বিনিয়োগকারী ছাড়াই এককভাবে ক্লাবের শতভাগ শেয়ার কিনে নেবেন বলে জানা গেছে। এর আগে আরেক আর্জেন্টাইন ব্যবসায়ী রিকার্দো পিনিও এলদেন্স কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছিল, তবে সে আলোচনা এগোয়নি।

মেসি একই সঙ্গে দুটি ক্লাবের মালিকানা রাখলে ভবিষ্যতে কিছু জটিলতা তৈরি হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। কোর্নিয়া ও এলদেন্স বর্তমানে তিনটি বিভাগের ব্যবধানে রয়েছে বলে আপাতত কোনো সমস্যা নেই, তবে স্পেনের ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) সাধারণত একজন সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডারের দুটি ক্লাবকে একই বিভাগে খেলার অনুমতি দেয় না। বর্তমানে মেসি ইন্টার মায়ামির হয়ে সক্রিয়ভাবে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে মাঠের বাইরে তাঁর এই ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ স্পষ্টভাবেই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তিনি ভবিষ্যতের জন্য ফুটবল প্রশাসনে নিজের অবস্থান মজবুত করছেন।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!