চলতি বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রস্তুতি নিলেও ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক চাপ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা সামনে এসেছে।

ইসি সূত্র জানায়, চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। তবে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা এবং ভোটকেন্দ্র নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বছরের শেষ সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় ভোটকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করা নিয়েও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসউদ জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কয়েকটি ধাপে আয়োজন করা হতে পারে। শুরুতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

ইসি মনে করছে, ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজন করা হলে প্রশাসনিক চাপ কমবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন প্রস্তুতিও আরও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

চলতি বছরের শেষ দিকে ভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা। দেশের অধিকাংশ স্কুল-কলেজ বছরের শেষ সময়ে বার্ষিক পরীক্ষা আয়োজন করে। এসব প্রতিষ্ঠানকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে হলে নির্বাচন ও পরীক্ষা—দুই কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।

এ ছাড়া প্রশাসনের ওপর জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের চাপও রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির ৮ তারিখ থেকে পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় তার আগেই নির্বাচন শেষ করার বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে। ফলে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির শুরুর সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও আলোচনা চলছে। বিএনপি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার না করে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তাদের অবস্থান রয়েছে।

দলটির নেতারা মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন দলীয় প্রতীকের বাইরে হলে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ তৈরি হবে।

অন্যদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন দীর্ঘদিন আটকে থাকলে তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিত্বের ঘাটতি তৈরি হয়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এখনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি। চলতি বছরের শেষ দিকে নাকি আগামী বছরের শুরুতে ভোট হবে—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও হয়নি।

ভোটের সময় নির্ধারণের আগে ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাসূচিসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করবে ইসি।

সবকিছু বিবেচনায় বর্তমানে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী বৈঠক ও সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!