বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আজ একটি বড় খবর এসেছে। ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষ ২০২৬ সালের পুরস্কার অনুষ্ঠানের জন্য “ইয়াশিন ট্রফি” বা বর্ষসেরা গোলরক্ষক পুরস্কারের মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন দশজন বিশ্বসেরা গোলরক্ষক, যাদের মধ্যে রয়েছেন মরক্কোর ইয়াসিন বুনু, বেলজিয়ামের থিবো কোর্তোয়া, স্পেনের হোয়ান গার্সিয়া, সুইজারল্যান্ডের গ্রেগর কোবেল, আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, সেনেগালের এদুয়ার্দ মেন্দি, স্পেনের ডেভিড রায়া, রাশিয়ার মাতভেই সাফোনভ, স্পেনের উনাই সিমন এবং কেপ ভার্দের ভোজিনহা।

এই তালিকা তৈরি করেছে ফরাসি ম্যাগাজিন ফ্রান্স ফুটবল এবং ইউয়েফার যৌথ আয়োজনে ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষ। এবারের মূল্যায়ন করা হয়েছে ২০২৫-২৬ মৌসুমের পারফরম্যান্স বিবেচনায়। মনোনীতদের তালিকা আজ, অর্থাৎ ৮ সেপ্টেম্বর, একটি লাইভ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এবারের আয়োজনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো স্থান পরিবর্তন—৭০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অরের মূল অনুষ্ঠান প্যারিসের বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আগামী ২৬ অক্টোবর, সোমবার, লন্ডনে অনুষ্ঠিত হবে এবারের চূড়ান্ত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। ১৯৫৬ সালে প্রথম ব্যালন ডি’অর বিজয়ী ইংল্যান্ডের স্ট্যানলি ম্যাথিউজের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এবার লন্ডনকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। তবে সংগঠকরা নিশ্চিত করেছেন যে এটি সাময়িক পরিবর্তন, এবং ২০২৭ সালে অনুষ্ঠান আবার প্যারিসে ফিরে আসার কথা রয়েছে।

এই দশজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তার নাম কেন এত গুরুত্বপূর্ণ তা পরিষ্কার—তিনি টানা দুই বছর, অর্থাৎ ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে এই পুরস্কার জিতে নিয়েছিলেন, এবং এবার তিনি হ্যাটট্রিক করার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছেন। গত মৌসুমে তিনি বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছান, যেখানে তার গোলবারের নিচে দৃঢ়তা আর্জেন্টিনার সাফল্যের একটি বড় কারণ ছিল। এর পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও তিনি চুপ করে বসে থাকেননি—অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ইউরোপা লিগ জয়ে তিনি অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ফর্ম এবং অতীত ইতিহাস মিলিয়ে মার্টিনেজই এবারের পুরস্কারের অন্যতম প্রধান দাবিদার, এবং তিনি জিতলে এই পুরস্কারের ইতিহাসে টানা তিনবার জয়ী প্রথম গোলরক্ষক হবেন।

মার্টিনেজের বাইরে অন্যান্য মনোনীতদের মধ্যেও আছে আকর্ষণীয় সব গল্প। স্পেনের ডেভিড রায়া প্রিমিয়ার লিগে ক্লিন শিট রক্ষার দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে, এবং টানা তৃতীয়বারের মতো গোল্ডেন গ্লাভ পুরস্কার জিতেছেন তিনি এই মৌসুমে। স্পেনের আরেক গোলরক্ষক উনাই সিমনের নাম উঠে এসেছে বিশ্বকাপে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য, যেখানে তিনি সাতটি ক্লিন শিট রেখেছেন। মজার বিষয়, ২০২৪ সালে তিনি এই পুরস্কারের রানার-আপ হয়েছিলেন।

কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার নাম অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হতে পারে, তবে তার গল্পটি অসাধারণ। স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ জয়ে তিনি ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেছিলেন। ওই ম্যাচের পর তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা মাত্র চব্বিশ ঘণ্টায় পঞ্চাশ হাজার থেকে বেড়ে প্রায় এক কোটিতে পৌঁছে যায়। সেনেগালের এদুয়ার্দ মেন্দি এবং মরক্কোর ইয়াসিন বুনু দুজনেই সৌদি প্রো লিগে চৌদ্দটি করে ক্লিন শিট রেখেছেন। এছাড়া বুনু ২০২৫ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে গোল্ডেন গ্লাভ জিতেছিলেন। বেলজিয়ামের থিবো কোর্তোয়া রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তার উচ্চতা ও দক্ষতার প্রমাণ রেখে চলেছেন, এবং তিনি ইতিমধ্যে ২০১৮ সালে একবার এই পুরস্কার জিতেছেন। বাকি তিনজন, স্পেনের হোয়ান গার্সিয়া, সুইজারল্যান্ডের গ্রেগর কোবেল এবং রাশিয়ার মাতভেই সাফোনভও নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।

একটি বিষয় বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো—এই দশজন মনোনীতের তালিকায় ব্রাজিলের কোনো গোলরক্ষক জায়গা পাননি।অতীতে আলিসন বেকার এবং এদারসনের মতো ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষকরা নিয়মিতই এই পুরস্কারের মনোনয়ন তালিকায় থাকতেন। কিন্তু এবার তাদের কারো নামই তালিকায় না থাকাটা অনেক ফুটবলপ্রেমীর কাছে বিস্ময়ের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই দশজন গোলরক্ষকের মধ্যে থেকে চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে আগামী ২৬ অক্টোবর, লন্ডনের অনুষ্ঠানে। ফ্রান্স ফুটবল জানিয়েছে, পুরুষদের বিভাগে বিশ্বের শীর্ষ একশো র‍্যাংকিংধারী দেশের একজন করে সাংবাদিকের ভোটে বিজয়ী নির্ধারিত হবে। এই পুরস্কারটি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কিংবদন্তি গোলরক্ষক লেভ ইয়াশিনের নামে দেওয়া হয়, যিনি একমাত্র গোলরক্ষক হিসেবে কখনো ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!