২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ‘Men’s Club of the Year’ বা পুরুষদের বর্ষসেরা ক্লাবের জন্য পাঁচটি দলকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মনোনীত ক্লাবগুলো হলো ইংল্যান্ডের আর্সেনাল, জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখ, নরওয়ের বোদো/গ্লিম্ট, ব্রাজিলের ফ্লামেঙ্গো এবং ফ্রান্সের প্যারিস সাঁ-জার্মেই (পিএসজি)। ২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজেদের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে এই পাঁচ ক্লাব জায়গা পেয়েছে। ফ্রান্স ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী, ক্লাব অব দ্য ইয়ার পুরস্কারের মূল্যায়নে শুধু ট্রফি নয়, দলের খেলার মান, জেতা শিরোপা, স্মরণীয় জয়, প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাফল্য, সম্মান ও ফেয়ার প্লের মতো বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

এই পাঁচ দলের মধ্যে আর্সেনাল ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম বড় প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছে। গত মৌসুমে ক্লাবটি ঘরোয়া ও ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থান তুলে ধরেছে। বিশেষ করে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং বড় ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতা আর্সেনালকে এই তালিকায় জায়গা করে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগের মতো কঠিন প্রতিযোগিতায় দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সও তাদের দাবিকে শক্তিশালী করেছে। ফলে বহু বছর পর ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারের অনুষ্ঠানে আর্সেনালের নাম এবার বর্ষসেরা ক্লাবের লড়াইয়েও থাকছে।

জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখও এই পুরস্কারের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার। বুন্দেসলিগায় তাদের সাফল্য এবং পুরো মৌসুমের পারফরম্যান্সের কারণে তারা পাঁচ দলের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছে। বায়ার্নের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের জন্য এই মনোনয়ন নতুন কিছু না হলেও প্রতিবারই পুরস্কারটি জেতার লড়াইয়ে তাদের আলাদা গুরুত্ব থাকে। দলের তারকা খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দল হিসেবে অর্জনও বায়ার্নের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। বিশেষ করে ক্লাবটির ধারাবাহিকতা এবং বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার ইতিহাস তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

তালিকার সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি নরওয়ের বোদো/গ্লিম্ট। ইউরোপের প্রচলিত বড় পাঁচ লিগের বাইরে থাকা এই ক্লাবটি নিজেদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। সীমিত সম্পদ ও তুলনামূলক কম পরিচিতির মধ্যেও ইউরোপীয় ফুটবলে বড় দলগুলোর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতা দেখিয়েছে তারা। তাই পাঁচ দলের তালিকায় বোদো/গ্লিম্টের উপস্থিতি এবারের মনোনয়নকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে। এই মনোনয়ন প্রমাণ করে, শুধু বড় নাম বা বিশাল বাজেট নয়, মাঠের পারফরম্যান্সও বর্ষসেরা ক্লাব নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

ব্রাজিলের ফ্লামেঙ্গোও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের প্রতিনিধিত্ব করছে। ক্লাবটি ঘরোয়া ও মহাদেশীয় পর্যায়ে সাফল্যের কারণে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর পাশাপাশি একই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষ করে কোপা লিবার্তাদোরেস ও ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে তাদের সাফল্য ফ্লামেঙ্গোর দাবিকে শক্তিশালী করেছে। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় এই ক্লাবের জন্য তাই মনোনয়নটি বড় স্বীকৃতি।

অন্যদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সাঁ-জার্মেই আবারও পুরুষদের বর্ষসেরা ক্লাবের মনোনয়ন পেয়েছে। আগেরবার এই পুরস্কার জেতা পিএসজি এবারও নিজেদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে টানা দ্বিতীয়বার পুরস্কার জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অরে পিএসজি পুরুষদের Club of the Year হয়েছিল, ফলে এবার তাদের সামনে শিরোপা ধরে রাখার সুযোগ রয়েছে।

শেষ পর্যন্ত এই পাঁচ ক্লাবের মধ্যে কোন দল পুরস্কার জিতবে, সেটি নির্ধারণ করবে ব্যালন ডি’অর পুরুষ বিভাগের আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের জুরি। পাঁচ মনোনীত দলের প্রত্যেক জুরি সদস্যের কাছে থাকা তালিকা থেকে দুইটি ক্লাব বেছে নিতে পারবেন এবং প্রথম পছন্দ পাবে দুই পয়েন্ট, দ্বিতীয় পছন্দ পাবে এক পয়েন্ট। সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া ক্লাবই হবে ২০২৬ সালের Men’s Club of the Year। পুরস্কারটি ২৬ অক্টোবর ২০২৬ লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে দেওয়া হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!