জেলা পর্যায়ে ভূমিসেবা কার্যক্রম আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে সেবাগ্রহীতাদের তথ্য অনুসন্ধান, টোকেন গ্রহণ ও প্রাথমিক সেবা সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার জন্য সম্ভব হলে কিয়স্ক মেশিন স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া যেতে পারে।

‘জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, ২০২৬’ অনুসরণ করে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রগুলো পরিচালনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নির্দেশনাটি জারি করা হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা যেতে পারে। ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি ধারণ করা ফুটেজ যথাযথভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রাখতে হবে। এর ফলে কেন্দ্রের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনের সময় সংশ্লিষ্ট ঘটনা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

ভূমিসেবা কেন্দ্রের নিরাপত্তার পাশাপাশি নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্ভব হলে কিয়স্ক মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এর মাধ্যমে সেবাগ্রহীতারা ভূমিসেবা-সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান, টোকেন গ্রহণ এবং বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

কিয়স্ক মেশিন স্থাপনের বিষয়টি অবশ্য বাধ্যতামূলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। নির্দেশনায় ‘সম্ভব হলে’ এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রের বাস্তব পরিস্থিতি ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

নাগরিকদের প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে জানানোর জন্য জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রের প্রবেশপথ ও অভ্যন্তরে জনসচেতনতামূলক ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার প্রদর্শনের কথাও বলা হয়েছে। এসব প্রচারসামগ্রীর মাধ্যমে অনলাইনে ভূমিসেবা গ্রহণের পদ্ধতি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, নামজারি আবেদন দাখিল, নির্ধারিত সরকারি ফি এবং হেল্পলাইন নম্বর ১৬১২২সহ প্রয়োজনীয় তথ্য দৃশ্যমানভাবে তুলে ধরতে হবে।

এ ছাড়া সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, পরামর্শ ও মতামত জানার জন্য প্রতিটি জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রে দৃশ্যমান স্থানে ‘মতামত বাক্স’ স্থাপনের নির্দেশনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা নামজারি ও অন্যান্য নাগরিক সেবা গ্রহণের অভিজ্ঞতা, সমস্যা, অভিযোগ কিংবা সেবা উন্নয়নের বিষয়ে পরামর্শ জানাতে পারবেন।

মতামত বাক্সে জমা পড়া অভিযোগ ও পরামর্শ যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও নির্দেশনায় বলা হয়েছে। এর ফলে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়াকে ভূমিসেবা কেন্দ্রের কার্যক্রম উন্নয়নে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে।

জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত মূল্যায়নের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি তিন মাস অন্তর এসব কেন্দ্রের কার্যক্রম ও সেবার মান মূল্যায়ন করা হবে। এ মূল্যায়নে সেবার মান, জনবল, অবকাঠামো, জনসচেতনতা, তথ্য নিরাপত্তা এবং নাগরিক সন্তুষ্টিসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হবে।

ত্রৈমাসিক মূল্যায়নের প্রতিবেদন পাঠানোর ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। প্রতি তিন মাসের মূল্যায়ন শেষ হওয়ার পরবর্তী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নির্ধারিত ছকে প্রতিবেদন ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিকেএমপি অনুবিভাগে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রগুলোতে শুধু অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানোর ওপর নয়, সেবা প্রদানের মান ও স্বচ্ছতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নিরাপত্তা ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, মতামত বাক্সের মাধ্যমে নাগরিক প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ, ব্যানার ও পোস্টারের মাধ্যমে তথ্য প্রদর্শন এবং কিয়স্কের মাধ্যমে তথ্য অনুসন্ধানের সুযোগ—সবগুলো ব্যবস্থাকে একটি নাগরিকবান্ধব সেবা কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রগুলোতে সেবাগ্রহীতাদের জন্য তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহির ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হতে পারে। বিশেষ করে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ এবং নিয়মিত ত্রৈমাসিক মূল্যায়নের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তবে কিয়স্ক মেশিনের মতো সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ক্ষেত্রেও নির্দেশনায় ‘স্থাপন করা যেতে পারে’ ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। তাই এটিকে সব জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে স্থাপন করতে হবে—এমন চূড়ান্ত নির্দেশ হিসেবে না দেখে জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় গ্রহণযোগ্য একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

সব মিলিয়ে, জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রগুলোকে আরও নিরাপদ, তথ্যসমৃদ্ধ ও নাগরিকবান্ধব করার লক্ষ্যে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, সম্ভব হলে কিয়স্ক মেশিন বসানো, মতামত বাক্স রাখা এবং ভূমিসেবা-সংক্রান্ত তথ্য দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রতি তিন মাসে সেবার মান মূল্যায়নের ব্যবস্থাও রয়েছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!