দেশের জনগণের মাথাপিছু সরকারি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা ১৯ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত হিসাবের ভিত্তিতে এই তথ্য জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সংসদ সদস্য তার প্রশ্নে দেশের মানুষের বর্তমান মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ এবং ঋণের বোঝা কমাতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ জানতে চান।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকা। এই হিসাব মূলত দেশের সরকারি ঋণের মোট পরিমাণকে জনসংখ্যার ভিত্তিতে মাথাপিছু হিসাবে উপস্থাপন করে।
ঋণের চাপ কমাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবহার এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
সরকারের নিজস্ব আয় বাড়ানোর মাধ্যমে ঋণের প্রয়োজন কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এ জন্য কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব বা এনটিআর বাড়ানোর পাশাপাশি রাজস্ব আহরণের পরিধি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয়কে আরও সাশ্রয়ী ও ফলপ্রসূ করার এবং অপ্রয়োজনীয় ও অগ্রাধিকারবহির্ভূত ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারি ঋণের সুদ ব্যয় ও পুনঃঅর্থায়নজনিত ঝুঁকি কমাতে বাজারভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল ঋণ ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণবাজার উন্নয়ন, বিনিয়োগকারীদের পরিধি বাড়ানো এবং সরকারি সিকিউরিটিজের বাজারকে আরও কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ নিয়ন্ত্রণেও নির্ধারিত সীমা বা সিলিং অনুসরণ করা হচ্ছে বলে সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতি ও বিদ্যমান সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সঞ্চয়পত্রের সুদ বা মুনাফার হার নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে উচ্চ ব্যয়ের ঋণের ওপর সরকারের নির্ভরতা কমানো এবং সামগ্রিক সুদ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি জানান।
সরকার অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত ঋণ এড়াতে অ্যানুয়াল বোরোয়িং প্ল্যান বা বার্ষিক ঋণ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা অনুসরণের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। নগদ অর্থের প্রয়োজন, সরকারের রাজস্ব ও ব্যয়ের প্রবাহ এবং ভবিষ্যৎ ঋণ পরিশোধের সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে ক্যাশ ফোরকাস্টিং চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পাবলিক মানি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৯-এর বিধান অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি ও পরিকল্পিত ব্যয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো একদিকে সরকারের নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়িয়ে নতুন ঋণের প্রয়োজন কমানো, অন্যদিকে নেওয়া ঋণের ব্যয় ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা। অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজস্ব বৃদ্ধি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং আরও সুশৃঙ্খল ঋণ ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জনগণের ওপর ঋণের চাপ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা ১৯ পয়সা হলো মাথাপিছু সরকারি ঋণের হিসাব—অর্থাৎ প্রত্যেক নাগরিককে ব্যক্তিগতভাবে এই টাকা ঋণ হিসেবে পরিশোধ করতে হবে, এমন নয়। এটি দেশের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণকে জনসংখ্যার ভিত্তিতে গড় করে হিসাব করা একটি পরিসংখ্যান।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!