মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট এমনভাবে স্থাপনের সম্ভাব্য পদ্ধতি যাচাই করতে প্রাথমিক পরীক্ষা চালিয়েছে রাজধানীর তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। দূর থেকে যেন মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট সহজে ও স্পষ্টভাবে দেখা যায়, মূলত সেই লক্ষ্যেই এ পরীক্ষা করা হয়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর লেক রোডে যৌথভাবে এ পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়। এতে তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. রফিকুল ইসলামসহ বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরীক্ষার সময় মোটরসাইকেলের সামনের বিভিন্ন স্থানে এবং ভিন্ন ভিন্ন উচ্চতায় নম্বর প্লেট স্থাপন করে দেখা হয়, কোন অবস্থানে রাখলে দূর থেকে সেটি সবচেয়ে সহজে শনাক্ত ও পড়া যায়। একই সঙ্গে নম্বর প্লেটের অবস্থান ও দৃশ্যমানতার কার্যকারিতাও পর্যবেক্ষণ করা হয়।

এর আগে গত আগস্টে মোটরসাইকেলের সামনের অংশেও নম্বর প্লেট বসানোর উদ্যোগের কথা জানা যায়। ঢাকার বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরা ব্যবহারের কারণে মোটরসাইকেলের নম্বর সহজে শনাক্ত করতেই সামনে নম্বর প্লেট বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মতামত দিতে বিআরটিএ সাত সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করেছিল।

নতুন ব্যবস্থার পেছনে মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে সড়কে চলাচলকারী মোটরসাইকেলকে প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও কার্যকরভাবে শনাক্ত করা। বর্তমানে বিভিন্ন যানবাহনের সামনে ও পেছনে নম্বর প্লেট থাকলেও মোটরসাইকেলের সামনের অংশে অনেক মডেলেই নম্বর প্লেট স্থাপনের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা নেই। ফলে নতুন করে প্লেট বসানোর ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলের নকশা, চালকের নিরাপত্তা এবং যান্ত্রিক কার্যকারিতার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এ নিয়ে কিছু বাস্তব প্রশ্নও রয়েছে। মোটরসাইকেলের সামনে নম্বর প্লেট বসানোর কারণে বাতাসের প্রবাহে বাধা তৈরি হলে উচ্চগতিতে যানটির ভারসাম্য বা নিয়ন্ত্রণে কোনো প্রভাব পড়ে কি না, সেটিও পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন। আবার হেডলাইটের নিচে বা রেডিয়েটরের সামনে প্লেট বসানো হলে ইঞ্জিনে বাতাস চলাচলে বাধা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

তবে তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগ ও বিআরটিএর সাম্প্রতিক পরীক্ষায় এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন অবস্থান ও উচ্চতায় নম্বর প্লেট বসিয়ে দৃশ্যমানতা যাচাই করা হয়েছে। ফলে পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে মোটরসাইকেলের সামনে নম্বর প্লেট স্থাপনের উপযুক্ত পদ্ধতি নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হবে।

এ উদ্যোগের সঙ্গে ঢাকার সড়কে এআইভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত। চলতি বছরের মে মাস থেকে ঢাকার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্তের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ক্যামেরায় যানবাহনের নম্বর শনাক্ত করে আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ডিজিটালভাবে মামলা করার ব্যবস্থাও চালু হয়েছে।

বিআরটিএর বর্তমান সেবা ব্যবস্থায় মোটরযানের জন্য ডিজিটাল নম্বর প্লেট ব্যবহারের প্রক্রিয়া রয়েছে। সংস্থাটির সেবা পোর্টালে নম্বর প্লেট সংযোজনের জন্য নির্ধারিত ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্য দেওয়া আছে।

তবে মোটরসাইকেলের সামনে নম্বর প্লেট স্থাপনের বিষয়টি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। তাই ঠিক কোথায়, কী আকারে বা কোন নকশায় নম্বর প্লেট বসানো হবে, কিংবা এটি কবে থেকে বাধ্যতামূলক হবে—এসব বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জননিরাপত্তা ও সড়ক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও কার্যকর করতে হলে যানবাহনের নম্বর সহজে শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যেই মোটরসাইকেলের সামনের নম্বর প্লেটের উপযুক্ত অবস্থান ও পদ্ধতি নির্ধারণে এ ধরনের পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!