বার্সেলোনা রবিবার স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া শহরে মেস্তায়া স্টেডিয়ামে গিয়ে স্বাগতিক ভ্যালেন্সিয়াকে ৫-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছে। এই জয়ে লামিনে ইয়ামাল দুটি গোল করেন এবং বার্সেলোনা লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে তিন পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় ২০২৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, লা লিগার ২০২৬-২৭ মৌসুমের চতুর্থ রাউন্ডের খেলা হিসেবে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বার্সেলোনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে ছিল। খেলার ষষ্ঠ মিনিটেই দলটি এগিয়ে যায়, যখন ফের্মিনের চমৎকার একটি পাস থেকে ইয়ামাল তীক্ষ্ণ কোণ থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন। এরপর পুরো ম্যাচ জুড়েই ভ্যালেন্সিয়ার রক্ষণভাগ বার্সেলোনার আক্রমণের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে। ইয়ামাল দ্বিতীয় গোলটিও করেন, আর তার একটি গোল বাতিলও হয়। এছাড়া ফের্মিন লোপেজ, রাফিনিয়া এবং পেদ্রিও গোলের খাতায় নাম লেখান, ফলে হান্স-ডিটার ফ্লিকের দল একেবারে দাপটের সঙ্গে খেলাটি শেষ করে।
এই জয়টি বার্সেলোনার জন্য একাধিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, এই জয়ের ফলে টানা চার ম্যাচে জয় পেল গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা, এবং তারা ইতিমধ্যে এই মৌসুমে ১৭টি গোল করে ফেলেছে, যা তাদের শুরুর ছন্দ কতটা ভালো তা বুঝিয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত, একই দিনে শুক্রবার রাতে রিয়াল মাদ্রিদ রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে হেরে যাওয়ায় বার্সেলোনার জন্য সুযোগ তৈরি হয়েছিল টেবিলের শীর্ষে জায়গা মজবুত করার, আর তারা সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে। ফলে তারা লিগ টেবিলে তিন পয়েন্টের ব্যবধানে শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছে।
অন্যদিকে ভ্যালেন্সিয়ার জন্য মৌসুমটা এখন পর্যন্ত হতাশাজনক। এই হারের পর দলটি টেবিলের একেবারে নিচের দিকে অবস্থান করছে এবং এখন পর্যন্ত মাত্র এক পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পেরেছে। কার্লোস কোরবেরানের অধীনে থাকা এই দলটি মৌসুম শুরু করেছিল সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে, এরপর রিয়াল বেতিস ও দেপোর্তিভো লা করুনিয়ার কাছে হেরে যায়, এবং এবার বার্সেলোনার কাছেও বড় ব্যবধানে হারল। এই ৫ গোলের হারের সঙ্গে সঙ্গে ভ্যালেন্সিয়া গত পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে চারটিতেই বার্সেলোনার কাছে হেরেছে, এবং এই ম্যাচগুলোতে মোট ২৩টি গোল হজম করেছে। স্পষ্টতই বার্সেলোনার আক্রমণের বিপক্ষে তাদের রক্ষণভাগ যথেষ্ট শক্তিশালী প্রমাণিত হচ্ছে না।
দুই দলের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান দেখলেও বোঝা যায় কেন এই ম্যাচে বার্সেলোনাকে এত স্পষ্টভাবে ফেভারিট মনে করা হচ্ছিল। মৌসুমের শুরুতে বার্সেলোনা প্রথমে এলচেকে ৫-০ গোলে হারায়, এরপর অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ২-০ গোলে এবং রায়ো ভায়েকানোকে ৫-২ গোলে পরাজিত করে। অর্থাৎ চার ম্যাচেই তারা প্রতিপক্ষকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে। এই ম্যাচেও লামিনে ইয়ামাল ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে; কারণ এর আগের ম্যাচেই রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে তার করা গোলটি ছিল ক্লাবের হয়ে তার ৫০তম গোল, যা তাকে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের ইতিহাসে এই মাইলফলক ছোঁয়া সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মৌসুমের শুরু থেকেই বার্সেলোনা যে ধারাবাহিকতা ও আক্রমণাত্মক ফুটবল দেখাচ্ছে, তা তাদের শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে বড় ভরসা জোগাচ্ছে। অন্যদিকে ভ্যালেন্সিয়ার সামনে এখনও অনেক কঠিন পথ বাকি, এবং তাদের কোচ কোরবেরানের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!