জিয়ানি ইনফান্তিনো আরও একবার ফিফা প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্তে অটল আছেন, যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ফুটবল বিশ্বে চাপ ক্রমশ বাড়ছে। ফিফার একজন মুখপাত্র রোববার নিশ্চিত করেছেন যে এপ্রিল মাসে ঘোষিত তাঁর পুনর্নির্বাচনের পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আসেনি, এবং তিনি ২০২৭ সালে চতুর্থ মেয়াদের জন্য লড়বেন।
সুইস আইনজীবী ইনফান্তিনো ২০১৬ সালে সেপ ব্লাটারের পদত্যাগের পর জরুরি নির্বাচনে ফিফার প্রেসিডেন্ট হন। এরপর তিনি ২০১৯ এবং ২০২৩ সালে পুনর্নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার তিনি চতুর্থ ও নিজের কথা অনুযায়ী শেষ মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছেন। আগামী ৭৭তম ফিফা কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে মরক্কোর রাবাতে, ২০২৭ সালের ১৮ মার্চ, এবং সেখানেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে।
তবে পরিস্থিতি এখন আর আগের মতো সহজ নেই। জুলাই মাসে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে পর্যন্ত মনে হচ্ছিল যে ২১১টি সদস্য সংগঠনের মধ্যে ২০০টিরও বেশি তাঁকে সমর্থন করছে, ফলে তাঁর পুনর্নির্বাচন প্রায় নিশ্চিত ছিল। কিন্তু এরপর থেকে পরিস্থিতি বদলে গেছে। ফিফার তিনটি বড় কনফেডারেশন—কনকাকাফ, উয়েফা এবং এএফসি—ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। এই তিন কনফেডারেশনের কিছু সদস্য দেশ অবশ্য এখনও তাঁর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
এই বিরোধিতার একটি বড় কারণ হলো ফিফার একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার বিতর্কিত পরিকল্পনা, যা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। এই ব্যর্থতার পর থেকেই ইনফান্তিনোর ওপর চাপ বাড়তে থাকে। এখন সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় উঠে আসছে, তাদের মধ্যে আছেন কনকাকাফের প্রেসিডেন্ট ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা। প্রার্থীদের আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা জানাতে হবে, তাই আগামী কয়েক মাসেই স্পষ্ট হবে ইনফান্তিনো সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হবেন কিনা।
এদিকে ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠন ফেয়ারস্কয়ার ফিফার কাছে আবেদন জানিয়েছে যেন ইনফান্তিনোকে আরেকটি মেয়াদের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। তাদের যুক্তি হলো, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী একজন প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ তিন মেয়াদ দায়িত্বে থাকতে পারেন, এবং ইনফান্তিনো ইতিমধ্যে সেই সীমা পার করে ফেলেছেন। ২০২২ সালে ইনফান্তিনো যুক্তি দিয়েছিলেন যে ২০১৬ সালে ব্লাটারের অসমাপ্ত মেয়াদ পূরণ করার জন্য তাঁর প্রথম মেয়াদটি সেই তিন মেয়াদের হিসাবে গণনা করা উচিত নয়। ফিফা সেই যুক্তি মেনে নিয়েছিল, যার ফলে তাঁর জন্য চতুর্থ মেয়াদের পথ খুলে যায়।
সব মিলিয়ে, ফিফার শীর্ষ পদে আগামী নির্বাচন এবার আগের মতো একতরফা হবে না বলেই মনে হচ্ছে। ইনফান্তিনো নিজে দৃঢ়ভাবে বলেছেন তিনি লড়াই থেকে সরছেন না, কিন্তু ফুটবল বিশ্বের প্রভাবশালী মহল থেকে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তা সহজে থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আগামী কয়েক মাস, বিশেষ করে নভেম্বরে প্রার্থিতা জমা দেওয়ার সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে, এই নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!