রিয়াল মাদ্রিদের জন্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেরাটা বেশ কঠিন এক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে হতে যাচ্ছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস জানিয়েছে যে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ফেদেরিকো ভালভের্দেই এই মুহূর্তে রিয়াল মাদ্রিদের একমাত্র সুস্থ ও প্রথম দলের স্বাভাবিক মিডফিল্ডার। কোচ হোসে মরিনিও নিজেই এর আগে জনসমক্ষে বলেছিলেন যে মিডফিল্ডে ভালভের্দে প্রায় একাই ভরসা হয়ে থাকবেন। ম্যাচটি শুরুর আগমুহূর্তে এমন সংকট রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকদের জন্য বেশ দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ ইউরোপের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচেই এমন সংকটে পড়তে হচ্ছে দলটিকে।

এই সমস্যার পেছনে দুটি আলাদা কারণ কাজ করছে—একদিকে নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে চোট। বের্নার্দো সিলভা, আরদা গুলার এবং এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা—এই তিনজনই ইন্টারের বিপক্ষে ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকবেন, আর অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি এখনো চোট থেকে সেরে ওঠেননি। কেন এই তিন মিডফিল্ডার নিষিদ্ধ, তার ব্যাখ্যাও পাওয়া গেছে সংবাদ প্রতিবেদনে। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাদের শেষ ম্যাচগুলোতে লাল কার্ড দেখার কারণেই এই নিষেধাজ্ঞা এখন নতুন মৌসুমে কার্যকর হচ্ছে। উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী, হলুদ কার্ডের হিসাব মৌসুম শেষে মুছে গেলেও লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা পরের মৌসুমেও বহাল থাকে। অর্থাৎ গত মৌসুমের শাস্তি এই মৌসুমেও দলটিকে ভোগাচ্ছে, আর এই নিয়মের কারণেই একসঙ্গে তিনজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় মাঠের বাইরে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

কীভাবে এই তিনজন লাল কার্ড দেখেছিলেন, তারও বিস্তারিত জানা গেছে। গুলার ও কামাভিঙ্গা দুজনেই বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে দুটি করে হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। সেই ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ ৪-৩ ব্যবধানে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিয়েছিল, যা দলটির জন্য একটি বড় হতাশার মৌসুম শেষ করার ঘটনা ছিল। অন্যদিকে বের্নার্দো সিলভার ঘটনা ছিল ভিন্ন। হাত দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দেওয়ার অপরাধে পর্তুগিজ এই মিডফিল্ডারকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল, যার ফলে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। সেই ম্যাচটি ছিল আসলে রিয়াল মাদ্রিদেরই বিপক্ষে, যা এখন এক অদ্ভুত পরিহাসের মতো দেখাচ্ছে, কারণ সেই লাল কার্ডের শাস্তিই এখন রিয়ালকে নিজেদের ম্যাচে ভোগাচ্ছে।

এই তিনজনের অনুপস্থিতি দলের জন্য কতটা বড় ধাক্কা, তা বোঝা যায় আরেকটি তথ্য থেকে। চুয়ামেনির চোটের কারণে অনুপস্থিতির সময় কামাভিঙ্গা এই মৌসুমে মিডফিল্ডে নিয়মিত জায়গা করে নিয়েছিলেন, তাই তার এই অনুপস্থিতি কোচ মরিনিওর জন্য একটি বড় ক্ষতি। এখন প্রশ্ন উঠছে, ভালভের্দের পাশে মিডফিল্ডে আর কে খেলবেন। এএস আরও জানিয়েছে যে চোট সারিয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকা থিয়াগো পিতার্চও এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না, ফলে মরিনিওর হাতে বিকল্পের সংখ্যা আরও কমে যাচ্ছে।

এমন সংকটজনক পরিস্থিতিতে কোচ মরিনিও বিকল্প সমাধান খুঁজছেন। এএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শূন্যস্থান পূরণে জুড বেলিংহ্যাম, ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আরনল্ড, হোর্হে সেস্তেরো এবং দিন হুইসেনের মতো খেলোয়াড়দের ব্যবহার করার কথা ভাবা হচ্ছে, পাশাপাশি দলের খেলার কৌশলে পরিবর্তন আনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এর আগের একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে চুয়ামেনিকে সুস্থ করে তুলে ভালভের্দের সঙ্গে জুটি বাঁধানোর একটা পরিকল্পনা থাকলেও, তার চোট এখনো পুরোপুরি সারেনি বলে সেই সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমনকি লা লিগায় রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ম্যাচে চুয়ামেনিকে কিছুটা খেলার সুযোগ দিয়ে তার ফিটনেস ফিরিয়ে আনার একটা পরিকল্পনার কথাও আগে জানা গিয়েছিল।

এই ম্যাচটি কোথায় ও কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে কোনো ধোঁয়াশা নেই। চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বের এই ম্যাচটি আগামী ৮ সেপ্টেম্বর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে দুই দল সবশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ২০২১-২২ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বে, যেখানে দুটি ম্যাচেই জিতেছিল স্প্যানিশ ক্লাবটি। ফলে ইতিহাসের বিচারে ইন্টারের বিপক্ষে রিয়ালের রেকর্ড ভালো হলেও, এবারের মিডফিল্ড সংকট সেই ইতিহাসকে ছাপিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, নিষেধাজ্ঞা আর চোটের যুগপৎ ধাক্কায় রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ড এখন প্রায় ফাঁকা। ইন্টার মিলানের বিপক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মরিনিওর হাতে এখন সময় কম, আর সমাধান খুঁজে বের করাটাই তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলের ভক্তরা এখন তাকিয়ে আছেন, মরিনিও শেষ পর্যন্ত কোন কৌশল বেছে নেন এবং এই সংকট কতটা প্রভাব ফেলে দলের পারফরম্যান্সে, তার দিকে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!