কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়ার লক্ষ্যে খুলনায় ব্লক জরিপের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে তিন দফার জরিপের মধ্যে দুই দফার কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে তৃতীয় দফার জরিপ চলছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফার যাচাই-বাছাই শেষে জেলার ৯টি উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন থেকে ২৩ হাজার ১০৫ জন কৃষককে কৃষক কার্ডের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।

বিএনপি সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের জন্য এই কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার ক্ষমতায় আসার পর কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় খুলনায় ব্লক জরিপ শুরু হয়। জরিপের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে জেলার কৃষকদের এই কর্মসূচির আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রথম ধাপে খুলনার রূপসা উপজেলার নৈহাটি, বটিয়াঘাটা উপজেলার আমিরপুর, দিঘলিয়া উপজেলার গাজিরহাট, ফুলতলা উপজেলার সদর, ডুমুরিয়া উপজেলার ভান্ডারপাড়া, তেরখাদা উপজেলার ছাগলাদাহ, দাকোপ উপজেলার সদর, পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালি এবং কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়নের কৃষকদের নির্বাচন করা হয়েছে।

কৃষক কার্ডের আওতায় আসা প্রত্যেক কৃষক বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে অনুদান পাবেন। জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এই অর্থ কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমান সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদে পর্যায়ক্রমে খুলনা জেলার ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৬০৩ জন কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

শুধু আর্থিক অনুদান নয়, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি কৃষি সহায়তা পাওয়ার সুযোগও তৈরি হবে। এর মধ্যে ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, কৃষি প্রশিক্ষণ, কৃষি যন্ত্রপাতি সহায়তা, বালাই দমনে পরামর্শ এবং কৃষিপণ্য বিক্রির সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি কৃষিবিমা প্রশিক্ষণ, ভর্তুকি ও প্রণোদনা, কৃষিঋণ এবং কৃষি উপকরণ সহায়তাও পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনার অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. তৌহিদীন ভূঁইয়া জানান, ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। কার্ডধারী কৃষকরা প্রতিবছর ২ হাজার ৫০০ টাকা করে অনুদান পাবেন।

কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় কারা সুবিধা পাবেন, তা নির্ধারণে ব্লক জরিপকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথম দুই দফার কাজ শেষ হওয়ার পর এখন তৃতীয় দফার জরিপ চলছে। এই জরিপ শেষ হলে আরও কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।

কৃষি খাতের সঙ্গে যুক্ত কৃষকদের জন্য সরাসরি আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সেবা ও কৃষি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করাই এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। পর্যায়ক্রমে খুলনার বিপুলসংখ্যক কৃষককে কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কৃষকদের সরকারি সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়াও আরও কাঠামোবদ্ধ হবে।

সূত্র: যুগান্তর

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!