দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন এবার লিফট উৎপাদনেও নিজেদের সক্ষমতা আরও জোরালো করেছে। বাংলাদেশে নিজস্ব কারখানায় ইউরোপীয় প্রযুক্তি ও নিরাপত্তামান অনুসরণ করে ওয়ালটন যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য বিভিন্ন ধরনের লিফট তৈরি করছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনায় ওয়ালটনের তৈরি লিফট ব্যবহৃত হচ্ছে।

ওয়ালটনের লিফট উৎপাদনের উদ্যোগ অবশ্য একেবারে নতুন নয়। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সালে বাংলাদেশে বিশ্বমানের লিফট তৈরির উদ্যোগ নেয়। পরবর্তী সময়ে গাজীপুরে নিজস্ব কারখানায় উৎপাদন শুরু করে এবং ২০১৯ সালে বাণিজ্যিকভাবে দেশীয় ব্র্যান্ডের লিফট বিক্রি শুরু করে। প্রথম দিকে বিভিন্ন সক্ষমতার যাত্রী ও কার্গো লিফট বাজারে আনা হয়।

বর্তমানে ওয়ালটনের লিফটের বিশেষত্ব হিসেবে সামনে রাখা হচ্ছে নিরাপত্তা, আধুনিক প্রযুক্তি ও স্থানীয় উৎপাদন সুবিধা। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, যাত্রীবাহী লিফট বিভিন্ন সক্ষমতায় এবং কার্গো লিফটও বিভিন্ন ভার বহনের উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে। লিফটের মডেল ও প্রয়োজন অনুযায়ী সক্ষমতা নির্ধারণ করা যায়।

ওয়ালটনের তৈরি লিফটে নিরাপত্তার জন্য রয়েছে একাধিক প্রযুক্তি। এর মধ্যে অটোমেটিক ডোর স্পিড কন্ট্রোল, ওভারলোড সেন্সর, ডোর লোড ডিটেক্টর, অটোমেটিক রেসকিউ ডিভাইস বা এআরডি এবং আগুনের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট ফ্লোরে লিফট ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা রয়েছে। কিছু মডেলে রিমোট মনিটরিংয়ের সুবিধাও রাখা হয়েছে।

লিফটের দরজার ক্ষেত্রেও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেন্টার ওপেনিং, স্লাইডিং বা সাইড ওপেনিংয়ের মতো দরজার বিকল্প রয়েছে। ভবনের ধরন, ব্যবহার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী লিফটের নকশা ও বিভিন্ন সুবিধা নির্বাচন করা যায়।

উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ওয়ালটনের গাজীপুরের কারখানায় বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি ও নিজস্ব গবেষণা ও পরীক্ষা সুবিধা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদন অবকাঠামো ও গবেষণা সুবিধা উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। জার্মানির TruPunch ও TruBend, যুক্তরাষ্ট্রের Water Jet Cutting Machine এবং তাইওয়ানের বিভিন্ন যন্ত্রপাতিসহ আধুনিক মেশিনারি ব্যবহারের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

নিরাপত্তার মানের ক্ষেত্রেও ইউরোপীয় মান অনুসরণের কথা জানিয়েছে ওয়ালটন। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, লিফট ডিজাইন ও উৎপাদনে EN 81-20, EN 81-50 এবং EN 81-70-এর মতো ইউরোপীয় নিরাপত্তা কোড অনুসরণ করা হয়। ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হলেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

দেশে লিফটের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়ভাবে লিফট উৎপাদনের গুরুত্বও বাড়ছে। আগে বাংলাদেশের বাজারে লিফটের বড় একটি অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। স্থানীয় উৎপাদন বাড়লে আমদানিনির্ভরতা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি দেশে লিফট উৎপাদন, স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে দক্ষ জনবল তৈরির সুযোগও বাড়তে পারে।

ওয়ালটনের তৈরি লিফটের আরেকটি সুবিধা হলো স্থানীয়ভাবে বিক্রয়োত্তর সেবা পাওয়ার সুযোগ। প্রতিষ্ঠানটি লিফটের ইনস্টলেশন, রক্ষণাবেক্ষণ ও সার্ভিসিংয়ের জন্য নিজস্ব প্রযুক্তিগত টিম থাকার কথা জানিয়েছে। বিভিন্ন মডেলের ক্ষেত্রে ওয়ারেন্টি ও সার্ভিস সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।

শুধু আবাসিক ভবন নয়, কার্গো লিফটের মাধ্যমে কারখানা, গুদাম, বাণিজ্যিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনার ভারী পণ্য ওঠানামার প্রয়োজনও পূরণ করার লক্ষ্য রয়েছে। ওয়ালটনের কার্গো লিফটের সক্ষমতা ৮০০ কেজি থেকে ৪৫০০ কেজি পর্যন্ত বলে প্রতিষ্ঠানটির তথ্য থেকে জানা যায়।

প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভবিষ্যতে স্মার্ট ও এআইনির্ভর লিফটের দিকেও এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে ওয়ালটনের। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিকল্পনায় এআইভিত্তিক স্মার্ট লিফট, শক্তি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং ইন্টেলিজেন্ট কানেক্টিভিটির মতো বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে।

ফলে দেশের পরিচিত একটি ইলেকট্রনিকস ব্র্যান্ডের লিফট উৎপাদনে প্রবেশ শুধু নতুন একটি পণ্যের সংযোজন নয়, বরং বাংলাদেশের স্থানীয় প্রযুক্তি ও শিল্প উৎপাদনের সক্ষমতারও একটি দৃষ্টান্ত। ইউরোপীয় প্রযুক্তি, স্থানীয় উৎপাদন এবং বিক্রয়োত্তর সেবার সমন্বয়ে ওয়ালটনের লিফট দেশের বাজারে বিদেশি ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা আরও বাড়াতে পারে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!