বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষা ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেনস নেক’ এলাকায় নতুন একটি মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। জাতীয় সড়ক ২৭-এর সমান্তরালে নির্মিত হতে যাওয়া এই চার লেনের সড়কের জন্য প্রায় ২ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে দেশটির মূল ভূখণ্ডের সড়ক যোগাযোগের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো শিলিগুড়ি করিডোর। নেপাল ও বাংলাদেশের মাঝখানে অবস্থিত এবং চীন ও ভুটান সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় এই সরু ভূখণ্ডটি ভারতের নিরাপত্তা ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি জানিয়েছেন, নতুন মহাসড়ক নির্মাণে ২ হাজার ৭৭ কোটি ১৮ লাখ রুপি অনুমোদন করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ৩১ দশমিক ০২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি চার লেনের সড়ক নির্মাণ করা হবে। নতুন এই সড়কটি জাতীয় সড়ক ৩২৭ নামে পরিচিত হবে।

সড়কটি পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা থেকে পানিটাঙ্কি ও খড়িবাড়ি হয়ে বিহারের গলগলিয়ার সঙ্গে যুক্ত হবে। এটি জাতীয় সড়ক ২৭ থেকে প্রায় ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরত্ব বজায় রেখে সমান্তরালভাবে নির্মাণ করা হবে।

নিতিন গড়করি এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে।

ভারতের সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মতে, নতুন মহাসড়ক চালু হলে বাগডোগরা, নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি ও পানিটাঙ্কি এলাকার যানজট কমবে।

এ ছাড়া বাগডোগরা বিমানবন্দরসহ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। একই সঙ্গে কৃষি, উদ্যানপালন, চা ও অন্যান্য স্থানীয় পণ্য দ্রুত বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় তিনটি বড় সেতু, একটি রোড ওভারব্রিজ, পাঁচটি হাতি চলাচলের বিশেষ আন্ডারপাস এবং মহাসড়কের দুই পাশে সার্ভিস রোড নির্মাণ করা হবে।

কার্শিয়াং বন বিভাগের আওতাধীন বেশ কয়েকটি এলাকা বন্যহাতির চলাচলের পথ হিসেবে পরিচিত। ফলে দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে হাতির সংঘর্ষ কমাতে বিশেষ আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ শিলিগুড়ি করিডোরের সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ মাত্র ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের জন্য এই করিডোর একমাত্র স্থলপথ হওয়ায় এর গুরুত্ব অনেক বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় সড়ক ২৭-এর পাশাপাশি নতুন আরেকটি চার লেনের মহাসড়ক তৈরি হলে এই অঞ্চলে ভারতের প্রতিরক্ষা পরিবহন ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে শিলিগুড়ি করিডোরে অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে ভারত সরকার। এর মধ্যে বারাণসী থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত হাইস্পিড রেল করিডোর, শিলিগুড়ির কাছে ভূগর্ভস্থ রেললাইন এবং মালদা-নিউ জলপাইগুড়ি রেলপথে চতুর্থ লাইন নির্মাণের উদ্যোগ রয়েছে।

নতুন মহাসড়ক প্রকল্পটি শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নয়, বরং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সূত্র: আরটিভি

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!