কমবেশি সবার মনেই সারাদিন নানা ধরনের চিন্তা ঘুরপাক খায়। তবে স্বাভাবিক চিন্তা যখন ধীরে ধীরে দুশ্চিন্তা বা উৎকণ্ঠায় পরিণত হয়, তখন তা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। মন অস্থির থাকা, ঘুমের ব্যাঘাত, খাওয়া-দাওয়ার প্রতি অনীহা কিংবা কোনো কাজে মনোযোগ দিতে না পারার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে মানসিক চাপ সামলাতে কিছু অভ্যাস কাজে লাগতে পারে। তবে দুশ্চিন্তা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করলে পেশাদারের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

জার্নাল লেখার অভ্যাস করুন

মনের ভেতর নেতিবাচক চিন্তা বা নানা ধরনের অনুভূতি জমতে থাকলে সেগুলো কাগজে লিখে ফেলতে পারেন। কী নিয়ে চিন্তা হচ্ছে, কেমন অনুভব করছেন কিংবা কোন বিষয়টি আপনাকে সবচেয়ে বেশি অস্থির করছে—নিজের মতো করে সবকিছু লিখুন।

মনের কথা প্রকাশ করার সুযোগ না থাকলে জার্নাল লেখা নিজের অনুভূতিগুলো গুছিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত লেখার মাধ্যমে কোন বিষয়গুলো আপনাকে বেশি উদ্বিগ্ন করে, সেটিও চিহ্নিত করা সহজ হতে পারে।

কিছু সময়ের জন্য ডিজিটাল ডিটক্স

অতিরিক্ত সময় মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটানোর অভ্যাসও অনেকের মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে নেতিবাচক খবর বা একের পর এক পোস্ট স্ক্রল করতে থাকলে মন আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

তাই দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় মোবাইল থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে সপ্তাহে অন্তত একদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিরতি নিয়ে বই পড়া, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা পছন্দের কোনো কাজে সময় দিতে পারেন।

শ্বাস-প্রশ্বাস ও হাঁটার অভ্যাস করুন

দুশ্চিন্তা বেড়ে গেলে কিছুক্ষণ শান্ত জায়গায় বসে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। কয়েক মিনিট নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ দিলে তা মুহূর্তের অস্থিরতা সামলাতে সহায়ক হতে পারে।

এর পাশাপাশি বাইরে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করাও ভালো অভ্যাস। নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড মানসিক সুস্থতার জন্য উপকারী এবং চাপ ও উদ্বেগ সামলাতে সাহায্য করতে পারে। পার্ক বা খোলা জায়গায় হাঁটা, হালকা ব্যায়াম কিংবা নিজের পছন্দের কোনো শারীরিক কর্মকাণ্ড নিয়মিত করার চেষ্টা করা যেতে পারে।

প্রয়োজন হলে পেশাদারের সাহায্য নিন

দুশ্চিন্তা যদি নিয়মিত জীবনের অংশ হয়ে যায় এবং ঘুম, খাবার, কাজ বা সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্য বা কাছের কারও সঙ্গে নিজের অনুভূতি ভাগ করে নিতে পারেন।

প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী বা অন্য কোনো মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদারের সঙ্গে কথা বলুন। দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র উদ্বেগের ক্ষেত্রে পেশাদার সহায়তা নেওয়া সমস্যাটি বুঝতে এবং কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!