চা ছাড়া অনেকেরই দিনের শুরুটা যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কেউ সকালে এক কাপ চা দিয়ে দিন শুরু করেন, আবার কেউ কাজের ফাঁকে বারবার চা পান করতে পছন্দ করেন। স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে বর্তমানে অনেকেই দুধ-চায়ের বদলে গ্রিন টি বেছে নিচ্ছেন। তবে গ্রিন টি কখন পান করা ভালো, তা নিয়ে অনেকেরই রয়েছে নানা প্রশ্ন।

গ্রিন টিতে ক্যাফেইন থাকে। পরিমাণটি সাধারণত কফির চেয়ে কম হলেও অতিরিক্ত ক্যাফেইন কিছু মানুষের অস্বস্তি, অস্থিরতা বা ঘুমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই কখন এটি পান করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

খালি পেটে গ্রিন টি পান না করাই ভালো

সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে গ্রিন টি পান করার অভ্যাস থাকলে তা এড়িয়ে চলা ভালো, বিশেষ করে যাদের পেটে অস্বস্তি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়। গ্রিন টিতে থাকা ক্যাফেইন ও অন্যান্য উপাদান কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পেটের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। গ্যাস্ট্রাইটিসের ক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে খাবার বা পানীয়ের প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।

তাই সকালে হালকা নাশতা বা কিছু খাবার খাওয়ার পর গ্রিন টি পান করা তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক হতে পারে।

দুই খাবারের মাঝের সময় হতে পারে ভালো

দুটি ভারী খাবারের মাঝখানের সময়ে গ্রিন টি পান করা যেতে পারে। এতে খালি পেটে পান করার সম্ভাবনা কমে এবং দিনের মধ্যে চা পান করার একটি নির্দিষ্ট সময়ও তৈরি হয়।

তবে গ্রিন টি পান করার পর যদি পেটে জ্বালাপোড়া, বমিভাব বা অস্বস্তি দেখা দেয়, তাহলে পরিমাণ কমানো কিংবা অন্য সময়ে পান করা ভালো।

ব্যায়ামের আগে গ্রিন টি

শরীরচর্চার আগে গ্রিন টি পান করার প্রবণতাও রয়েছে। এতে থাকা ক্যাফেইন কিছু মানুষের সতর্কতা ও উদ্যম বাড়াতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই প্রতিক্রিয়া নাও হতে পারে। নতুন কোনো পানীয় ব্যায়ামের আগে গ্রহণ করলে শরীরের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গুরুত্বপূর্ণ।

তাই ব্যায়ামের আগে গ্রিন টি খেতে চাইলে ব্যক্তিগত সহনশীলতা অনুযায়ী সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে।

রাতে গ্রিন টি পান করার ক্ষেত্রে সতর্কতা

গ্রিন টিতে ক্যাফেইন থাকায় রাতে ঘুমের কাছাকাছি সময়ে এটি পান না করাই ভালো। বিশেষ করে যারা ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে সন্ধ্যার পর গ্রিন টি পান করলে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

রাতে গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে ঘুমাতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে পান করা তুলনামূলক ভালো। তবে ঘুমের সমস্যা হলে সন্ধ্যার পর ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলাই উপকারী।

সবশেষে, গ্রিন টি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হতে পারে, তবে এটিকে কোনো রোগের চিকিৎসা বা সব ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান হিসেবে দেখা উচিত নয়। নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে পরিমাণ ও সময় ঠিক করাই সবচেয়ে ভালো।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!