স্পেনের ফুটবল ক্লাব এফসি বার্সেলোনা তাদের দীর্ঘ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক মৌসুমে ১ বিলিয়ন ইউরোর বেশি আয় করেছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমের বার্ষিক আর্থিক হিসাব চূড়ান্ত করার পর ক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে তাদের মোট আয় এবার ১ বিলিয়ন ইউরোর সীমা অতিক্রম করে গেছে, যা ক্লাবের অর্থনৈতিক ইতিহাসে সম্পূর্ণ নতুন একটি রেকর্ড। শুধু আয় বৃদ্ধিই নয়, একই সঙ্গে টানা তৃতীয় মৌসুমে ক্লাব ইতিবাচক সাধারণ আর্থিক ফলাফলও অর্জন করেছে, অর্থাৎ আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হয়েছে। ক্লাবের কর্মকর্তারা এটিকে তাদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এই ঐতিহাসিক অর্জনের কেন্দ্রে রয়েছে খোদ এফসি বার্সেলোনা ক্লাব এবং তাদের পরিচালনা পর্ষদ। ক্লাবের বোর্ড অব ডিরেক্টরস তাদের এক সাধারণ সভায় এই বার্ষিক হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করে এবং একই সঙ্গে সদস্যদের সাধারণ সভা, অর্থাৎ জেনারেল অ্যাসেম্বলি ডাকার সিদ্ধান্ত নেয়, যেখানে ক্লাবের সদস্যরা এই হিসাব চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করবেন। বোর্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মৌসুমটি পরিচালনাগত ও ধারণক্ষমতাগত দিক থেকে যথেষ্ট কঠিন ছিল, কারণ মৌসুমের একটি বড় অংশ ক্লাবকে নিজেদের মূল মাঠের বাইরে খেলতে হয়েছে। তারপরও এই প্রতিকূলতার মধ্যেই ক্লাব নির্ধারিত আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে, যা বোর্ডের মতে একটি বড় সাফল্য।
কেন এই আয় রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে, তার পেছনে রয়েছে আয়ের কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন উৎসের সম্মিলিত অবদান। ক্লাবের মোট আয় সাধারণত কয়েকটি প্রধান খাত থেকে আসে— স্পনসরশিপ ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি থেকে আসা কমার্শিয়াল রেভিনিউ, জার্সি ও ক্লাবের বিভিন্ন পণ্য বিক্রি থেকে আসা মার্চেন্ডাইজিং আয়, টিকিট বিক্রি ও ভিআইপি সেবাসহ স্টেডিয়ামভিত্তিক ম্যাচডে আয়, এবং টেলিভিশন ও সম্প্রচার স্বত্ব থেকে আসা ব্রডকাস্টিং আয়। ২০২৫-২৬ মৌসুমে এই খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে স্পনসরশিপ চুক্তি থেকে আসা বাণিজ্যিক আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং ক্লাবের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিএলএম-এর মাধ্যমে বিক্রি হওয়া পণ্যসামগ্রীর রেকর্ড বিক্রি। এর পাশাপাশি স্টেডিয়ামভিত্তিক আয়েও উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে।
কীভাবে এই আয় বৃদ্ধি সম্ভব হলো, তার মূল ব্যাখ্যা লুকিয়ে আছে ক্যাম্প নউ-এ ক্লাবের ধীরে ধীরে প্রত্যাবর্তনের মধ্যে। মৌসুমের প্রথমার্ধে ক্লাবকে এস্তাদি জোয়ান ক্রুইফ ও এস্তাদি অলিম্পিক ইউয়িস কোম্পানিসে খেলতে হয়েছিল, আর পরবর্তী সময়ে ৪২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন আংশিকভাবে প্রস্তুত ক্যাম্প নউ-এ কিছু ম্যাচ আয়োজন করা হয়। স্টেডিয়াম তখনও পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া সত্ত্বেও ধীরে ধীরে দর্শক ফেরার সুযোগেই ম্যাচডে আয়ে লক্ষণীয় উন্নতি দেখা যায়। ক্লাবের মতে, এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে, কারণ স্টেডিয়াম যখন পূর্ণ ক্ষমতায় চালু হবে, তখন এই খাত থেকে আয়ের পরিমাণ আরও অনেক বেশি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পুরো ঘটনার ভৌগোলিক কেন্দ্রবিন্দু স্পেনের বার্সেলোনা শহর, যেখানে ক্লাবের নিজস্ব ঐতিহাসিক মাঠ স্পটিফাই ক্যাম্প নউ অবস্থিত। এর পাশাপাশি মৌসুমের একটি বড় অংশজুড়ে ব্যবহৃত দুটি সাময়িক ভেন্যু, এস্তাদি জোয়ান ক্রুইফ ও এস্তাদি অলিম্পিক ইউয়িস কোম্পানিসও এই আয়ের হিসাবের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত, কারণ মৌসুম জুড়ে ঘরের মাঠের ম্যাচগুলো এই তিনটি ভেন্যুতেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সময়ের হিসাবে, ২০২৫-২৬ মৌসুমের এই বার্ষিক হিসাব ২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ক্লাবের বোর্ডের সাধারণ সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়, এবং সদস্যদের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জেনারেল অ্যাসেম্বলি অনুষ্ঠিত হবে একই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ক্যাম্প নউ-এ ক্লাবের প্রত্যাবর্তন ঘটেছিল ২০২৫ সালের নভেম্বরে, দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় মাঠের বাইরে থাকার পর, এবং এই প্রত্যাবর্তনই পুরো মৌসুম জুড়ে আয়ের এই ঐতিহাসিক বৃদ্ধির ভিত রচনা করে দেয় ।
সূত্র: Yahoo Sports
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!