বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আভিজাত্যপূর্ণ ব্যক্তিগত সম্মাননা ব্যালন ডি’অর। প্রতি বছর ফুটবল মরসুম শেষে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য আর দলগত সাফল্যের ভারসাম্য মেপে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। সম্প্রতি রিয়াল মাদ্রিদ ম্যানেজার হোসে মরিনহোর এক মন্তব্যের জবাবে ফুটবল আঙিনায় এক নতুন বিতর্কের সূচনা করেছেন প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) স্প্যানিশ হেড কোচ লুইস এনরিক। রিয়াল তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে কেন পুরস্কারটির যোগ্য, তা নিয়ে মরিনহোর করা মন্তব্যের পাল্টা জবাবে এনরিক স্পষ্ট করেছেন তাঁর অবস্থান।

​এই চলমান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন লুইস এনরিক এবং পিএসজির মূল একাদশের তারকারা। তবে পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ হোসে মরিনহো এবং তাঁর ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। মূলত মরিনহো যখন দাবি করেন যে কেবল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা বিশ্বকাপ জেতার ওপর ভিত্তি করে ব্যালন ডি’অর দেওয়া অনুচিত এবং বিশ্বসেরা খেলোয়াড় রিয়াল মাদ্রিদেই রয়েছে, তখন এনরিক তাঁর দল পিএসজির ফুটবলারদের—বিশেষ করে ফাবিয়ান রুইজ ও ওসমানে দেম্বেলের মতো পারফর্মারদের যোগ্যতার পক্ষে সুর চড়ান।

​সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তরে এনরিকের মূল বার্তাটি ছিল সংক্ষিপ্ত কিন্তু জোরালো। তিনি সরাসরি বলেন যে, ইন্ডিভিজুয়াল বা ব্যক্তিগত পুরস্কার নিয়ে তাঁর নিজের কোনো মাথাব্যথা বা ব্যক্তিগত আগ্রহ নেই। তবে যদি নীতিগতভাবে কাউকে বিচার করতেই হয়, তবে ব্যালন ডি’অর পিএসজিরই কোনো খেলোয়াড়ের হাতে উঠা উচিত। যুক্তি হিসেবে তিনি তুলে ধরেন যে, পিএসজিতে এমন খেলোয়াড়রা রয়েছেন যারা ইউরোপীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। তাছাড়া জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বজয়ের ইতিহাস গড়া ফাবিয়ান রুইজের মতো তারকাও তাঁর ড্রেসিংরুমে রয়েছেন।

​ফরাসি ফুটবলের অন্যতম বড় ক্লাব পিএসজির প্রেস কনফারেন্স হলে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যটি দেন লুইস এনরিক। পিএসজি ও মোনাকোর মধ্যকার লীগ ম্যাচকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এনরিক তাঁর ভাবনা তুলে ধরেন। স্প্যানিশ কোচের দেওয়া এই প্রতিক্রিয়া মুহূর্তের মধ্যেই ইউরোপীয় ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় এবং আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

​মৌসুমের যে সময়ে ব্যালন ডি’অরের চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকা নিয়ে ভোটার ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার মাঝে তীব্র তোড়জোর চলে, ঠিক সেই মুহূর্তেই এমন বক্তব্য গণমাধ্যমে উঠে আসে। কিছুদিন আগেই রিয়াল মাদ্রিদের কোচ মরিনহো দাবি করেছিলেন যে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সেরা এমবাপ্পেই এই পুরস্কারের একমাত্র দাবিদার। ঠিক তার পরপরই স্প্যানিশ ট্যাকটিশিয়ান লুইস এনরিক সংবাদ সম্মেলনে এসে পিএসজি তারকাদের হয়ে সোচ্চার হন।

​এনরিকের এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে দ্বিমুখী কৌশলগত কারণ। প্রথমত, মরিনহো যখন প্রকাশ্যে বিশ্বকাপ বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী খেলোয়াড়দের কৃতিত্বকে ব্যালন ডি’অরের জন্য একমাত্র মানদণ্ড মানতে অস্বীকৃতি জানান, তখন নিজের শিষ্যদের ডিফেন্ড করা এনরিকের জন্য জরুরি ছিল। ফাবিয়ান রুইজ ও ওসমানে দেম্বেলের মতো ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক সাফল্যকে সম্মান জানিয়ে এনরিক ক্লাবের ভেতরের পরিবেশকে উজ্জীবিত রাখতে চেয়েছেন। তাছাড়া একই সাথে “আমি ব্যক্তিগত পুরস্কারে আগ্রহী নই” বলে তিনি ফুটবলারদের আসল লক্ষ্য দলগত ট্রফি অর্জন—সেটিই সূক্ষ্মভাবে মনে করিয়ে দেন।

​এনরিক ও মরিনহোর এই পাল্টাপাল্টি যুক্তি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে দলগত সাফল্য বনাম ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চিরন্তন তর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। একদিকে মরিনহো ব্যক্তিগত একক আধিপত্যকে প্রাধান্য দিচ্ছেন, অন্যদিকে এনরিক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও বিশ্বকাপ জয়ী সম্মিলিত পারফরম্যান্সকে এগিয়ে রাখছেন। কোচের এই সাহসী বক্তব্য নিশ্চিতভাবেই পিএসজি তারকাদের মানসিক অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং বিচারকদের ওপরও এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!