দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, বাপেক্সকে শক্তিশালী করা, পিএসসি ও বিডিং কার্যক্রম এবং এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সেলিনা সুলতানা (সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫)-এর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান না হওয়া এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে দেশে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সরকার সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি খাতকে শক্তিশালী করতে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন উৎস অনুসন্ধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
১৫০ কূপ খননের পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৩০টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে।
এসব কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে আরও ৭টি কূপের খনন কাজ চলমান রয়েছে। এগুলো শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে আরও প্রায় ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে।
বাকি কূপগুলো পর্যায়ক্রমে খননের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গ্যাস অনুসন্ধানে সাইসমিক জরিপ
নতুন গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানে বড় পরিসরে সাইসমিক জরিপ পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
শক্তিশালী করা হচ্ছে বাপেক্স
দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)-এর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বাপেক্সকে আরও কার্যকর করতে দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পিএসসি ও বিডিং কার্যক্রম
জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও নতুন গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) ও বিডিং কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর ইতোমধ্যে বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়াও চলছে।
অফশোর ও অনশোর এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে নতুন মজুত পাওয়া গেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাড়ানো হবে এলএনজি সক্ষমতা
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোম এলাকায় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
প্রস্তাবিত এই টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূল, পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে আরও একাধিক ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!