আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ চেলসি ছেড়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়েছেন, প্রিমিয়ার লিগের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলা ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ১৬৯ মিলিয়ন ডলার) ফির বিনিময়ে। সিটি তাকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে সাইন করিয়েছে, যার মেয়াদ থাকবে ২০৩১ সাল পর্যন্ত। এই অঙ্কটি ব্রিটিশ ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি-র রেকর্ডের সমান, যা লিভারপুল গত মৌসুমে নিউক্যাসল থেকে আলেক্সান্ডার ইসাককে কিনতে খরচ করেছিল।

২৫ বছর বয়সী এনজো ফার্নান্দেজ এই চুক্তির কেন্দ্রবিন্দু। তিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ৪৯টি ম্যাচ খেলে ৮টি গোল করেছেন এবং তার ক্যারিয়ারে ডিফেন্সা ই জাস্টিসিয়া, রিভার প্লেট, বেনফিকা এবং চেলসির হয়ে একাধিক শিরোপা জিতেছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তিনি সিটিতে গিয়ে তার সাবেক চেলসি কোচ এনজো মারেস্কার সঙ্গে পুনরায় একত্রিত হচ্ছেন, যিনি বর্তমানে সিটির দায়িত্বে আছেন।

এই ট্রান্সফারের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। চেলসিতে ফার্নান্দেজের ভবিষ্যৎ ধীরে ধীরে অনিশ্চিত হয়ে পড়ছিল — নতুন মৌসুম শুরুর পর থেকেই তার অবস্থান নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছিল, এবং কোচ জাবি আলোনসো লুটন টাউনের বিপক্ষে কারাবাও কাপ ম্যাচের স্কোয়াডেও তাকে রাখেননি। অন্যদিকে সিটি এই গ্রীষ্মে তাদের মিডফিল্ড পুনর্গঠনে ব্যস্ত ছিল, রদ্রি, তিজানি রাইন্ডার্স, নিকো গঞ্জালেজ এবং বার্নার্দো সিলভার প্রস্থানের পর। ফার্নান্দেজ নিজেও এই যোগদান নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, সিটি সাফল্যের জন্য গড়া একটি ক্লাব, এবং তিনি এখানে ট্রফি জেতার চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত।

ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার ঠিক আগে, এই সপ্তাহেই এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, এর কয়েকদিন আগে পর্যন্তও চুক্তিটি অনিশ্চিত ছিল — ফার্নান্দেজ সিটির সঙ্গে ব্যক্তিগত শর্তে মৌখিক সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন সাংবাদিক ফাব্রিজিও রোমানো, তবে দুই ক্লাবের মধ্যে চূড়ান্ত আর্থিক সমঝোতা তখনো বাকি ছিল।

এই ট্রান্সফার ইংল্যান্ডের দুই শীর্ষ প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব — লন্ডনভিত্তিক চেলসি এবং ম্যানচেস্টারভিত্তিক সিটির মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ফার্নান্দেজ এখন থেকে ম্যানচেস্টার সিটির ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে খেলবেন।

আলোচনা প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল ছিল। চেলসি আগেই ১২০ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি ডেডলাইন নির্ধারণ করেছিল, যা সিটি প্রথমে উপেক্ষা করেছিল। পরবর্তীতে ফার্নান্দেজ ব্যক্তিগত শর্তে সিটির সঙ্গে মৌখিক সমঝোতায় পৌঁছান, এরপর ক্লাব-থেকে-ক্লাব পর্যায়ে দর কষাকষি শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত দুই ক্লাব ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের ফিতে একমত হয়। এই চুক্তির ফলে সিটির মিডফিল্ড ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো — এলিয়ট অ্যান্ডারসন ও আইয়ুব বুয়াদির সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি তরুণ ও অভিজ্ঞতার মিশ্রণে গড়া শক্তিশালী মিডফিল্ড লাইনআপ তৈরি হলো, যদিও পুরো তিনজন খেলোয়াড় কিনতে সিটির খরচ হয়েছে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, গত মৌসুমে সিটির মিডফিল্ড ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগেছিল, আর ফার্নান্দেজের মতো বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড় যোগ দেওয়ায় দলের গভীরতা আরও বাড়বে। বিশেষ করে জেরেমি ডোকু চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকায় এই মুহূর্তে তার সংযোজন সিটির জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে আর্সেনালের বিরুদ্ধে সিটির এই দলবদল বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। চেলসির দিক থেকে এই বিক্রি ক্লাবটির আর্থিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে, যদিও এতে তাদের মধ্যমাঠে নতুন শূন্যতা তৈরি হলো, যা তাদের নতুন কোচ জাবি আলোনসোকে দ্রুত পূরণ করতে হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!