ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে টার্নওভার ট্যাক্সের নিয়মে পরিবর্তন এনেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বছরে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে কোনো টার্নওভার কর দিতে হবে না।

সোমবার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এনবিআর।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বার্ষিক ২ কোটি টাকার কম টার্নওভার থাকা প্রতিষ্ঠান টার্নওভার করের আওতার বাইরে থাকবে। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক লেনদেন ২ কোটি থেকে ৪ কোটি টাকার মধ্যে, তাদের মোট টার্নওভারের ওপর দশমিক ৫০ শতাংশ হারে ন্যূনতম কর দিতে হবে।

অন্যদিকে, কোনো প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার ৪ কোটি টাকার বেশি হলে আগের নিয়ম অনুযায়ী ১ শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধ করতে হবে। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান লাভে থাকুক বা ক্ষতিতে—এই কর দিতে হবে।

বাজেটে পরিবর্তন আনে এনবিআর

চলতি অর্থবছরের বাজেটে টার্নওভার ট্যাক্স ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনে এনবিআর। তখন ৪ কোটি টাকার বেশি টার্নওভার থাকা প্রতিষ্ঠানের জন্য ন্যূনতম কর ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।

এর ফলে ব্যবসায়ীদের মোট বিক্রির পরিমাণের ওপর কর দিতে হতো, প্রতিষ্ঠান লাভ করেছে কি না সেটি বিবেচনায় নেওয়া হতো না।

বিশেষ পণ্যে থাকছে আলাদা করহার

নতুন নিয়মে সাধারণ ব্যবসার পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট খাতের জন্য আলাদা টার্নওভার করহার বহাল থাকবে।

সিগারেট, বিড়ি ও তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে টার্নওভার কর ৩ শতাংশ, কার্বনেটেড বেভারেজ ও মিষ্টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আড়াই শতাংশ এবং মোবাইল ফোন অপারেটরদের জন্য দেড় শতাংশ কর নির্ধারিত রয়েছে।

কর বিশেষজ্ঞের মতামত

কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, টার্নওভার ট্যাক্স ব্যবস্থা আয়করের মূলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে এনবিআর এখনো এ ব্যবস্থা চালু রেখেছে।

তিনি বলেন, টার্নওভার করের সীমা বাড়ানোর ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। তবে এই সুযোগের অপব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!