বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মোখলেসুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টির দ্বাদশ আসরকে ঘিরে। তার সঙ্গে আরও দুজনকেও একই ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে—বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজো অফিসার জাকির হোসেন এবং বগুড়া জেলার বিসিবির সাবেক কাউন্সিলর ও অডিট কমিটির সাবেক সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলাম সানি। তিনজনের বিরুদ্ধেই আইসিসির ২০২৪ সালের অ্যান্টি-করাপশন কোড ফর পার্টিসিপেন্টসের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে, তবে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ধারায় অভিযুক্ত হয়েছেন শামীম।
গত মঙ্গলবার, অর্থাৎ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিসিবি এই তথ্য জানায়। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এই সপ্তাহে এলো, ঘটনার সূত্রপাত অনেক আগে। ২০২৫-২৬ মৌসুমের বিপিএল চলাকালীন সময়েই তখনকার বিসিবি পরিচালক শামীমের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রথম প্রকাশ্যে আসে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি নিজ থেকেই দায়িত্ব ছেড়ে দেন। এরপর বিষয়টি তদন্তের জন্য বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিটের (আকু বা ইন্টিগ্রিটি ইউনিট) প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের কাছে পাঠানো হয়, যিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সাবেক অ্যান্টি-করাপশন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মাঝে গত জুন মাসে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির একটি নতুন কমিটি দায়িত্ব নেয়, কিন্তু এরপরও ফিক্সিং-সংক্রান্ত এই তদন্ত থেমে থাকেনি বরং চলমান ছিল। দীর্ঘ তদন্ত শেষে অ্যালেক্স মার্শালের প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে শামীমসহ আরও দুজনের নাম উঠে আসে, যার ভিত্তিতেই এখন আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করা হলো।
গোটা ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে, বিশেষ করে বিপিএলের দ্বাদশ আসরকে কেন্দ্র করে, এবং তদন্ত পরিচালিত হয়েছে বিসিবির নিজস্ব ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের মাধ্যমে।
শামীমের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে চারটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমত, আইসিসি কোডের ২.১.১ ও ২.১.৪ ধারা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিপিএলের ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি, পরিচালনা বা অন্য কোনো দিক অনুচিতভাবে প্রভাবিত করেছেন বা করার চেষ্টা করেছেন, পাশাপাশি কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উৎসাহিত বা সহায়তা করেছেন। দ্বিতীয়ত, ২.৪.৪ ধারা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর কোনো প্রস্তাব বা আমন্ত্রণ পাওয়ার তথ্য তিনি যথাসময়ে নির্ধারিত অ্যান্টি-করাপশন কর্মকর্তাকে জানাননি। তৃতীয়ত, ২.৪.৭ ধারা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তদন্ত-সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ বা তথ্য গোপন করে, মুছে ফেলে বা ধ্বংস করে তদন্তকাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন।
কেন এই অভিযোগ এলো তার পেছনের কারণ হলো—দীর্ঘ তদন্তে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা, দুর্নীতি-সংক্রান্ত তথ্য যথাসময়ে না জানানো, দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্তে সরাসরি বাধাদানের মতো বিষয়গুলোর সপক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে বিসিবি জানিয়েছে।
কীভাবে এই প্রক্রিয়া এগোলো তা হলো—প্রথমে সন্দেহ, এরপর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ, তারপর দীর্ঘমেয়াদি তদন্ত, এবং সবশেষে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন। চার্জ নোটিশ জারির সঙ্গে সঙ্গে তিনজনকেই সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোড অনুযায়ী নির্ধারিত পদ্ধতি মেনে তাদের প্রত্যেককে অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য ১৪ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কোডে বর্ণিত শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে বিসিবি সূত্রে জানা গেছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!