রাজধানী ঢাকার যানজটপূর্ণ সড়কে দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার ও হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স চালু করেছে সরকার। একই উদ্যোগের আওতায় দেশের নির্ধারিত মহাসড়কগুলোতে ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স এবং হাইওয়ে পুলিশের জন্য ৮০টি প্যাট্রোল মোটরসাইকেলও সেবায় যুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের (বিআরএসপি) আওতায় এসব যানবাহন চালু করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন এসব জরুরি সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম উপস্থিত ছিলেন। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটেও ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স, ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স ও ৮০টি হাইওয়ে প্যাট্রোল মোটরসাইকেল উদ্বোধনের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো ঢাকার জন্য চালু হওয়া ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স। রাজধানীর ব্যস্ত ও যানজটপূর্ণ সড়কে সাধারণ অ্যাম্বুলেন্স অনেক সময় দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে না। ফলে দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। নতুন মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্সগুলো তুলনামূলকভাবে সরু ও ব্যস্ত সড়ক দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের প্রাথমিক সহায়তা এবং হাসপাতালে নেওয়ার কাজে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কের মোট ৫০০ কিলোমিটার অংশে ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো জয়দেবপুর-হাটিকুমরুল-বগুড়া-রংপুর, হাটিকুমরুল-নাটোর-রাজশাহী এবং জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ জাতীয় মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব মহাসড়কে প্রায় প্রতি ১০ কিলোমিটার পরপর একটি করে অ্যাম্বুলেন্স রাখার ব্যবস্থা থাকবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তির জন্য দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে যত বেশি সময় লাগে, গুরুতর আহত ব্যক্তির ঝুঁকিও তত বাড়তে পারে। তাই দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার, প্রাথমিক জরুরি সহায়তা এবং হাসপাতালে স্থানান্তরের সময় কমিয়ে আনাই এই ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য।
এই উদ্যোগের সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের জন্য ৮০টি প্যাট্রোল মোটরসাইকেলও যুক্ত করা হয়েছে। মহাসড়কে টহল জোরদার, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় দ্রুত পৌঁছানো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এসব মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হবে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটার পর শুধু উদ্ধার তৎপরতাই নয়, মহাসড়কের সার্বিক নজরদারি ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধেও নতুন যানবাহনগুলো ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় এসব যানবাহন যুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের লক্ষ্য হলো দুর্ঘটনা কমানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনা ঘটার পর আহতদের দ্রুত চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, চালক ও পথচারীদের সচেতন করার পাশাপাশি কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস, গতি নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতার পাশাপাশি দুর্ঘটনা-পরবর্তী চিকিৎসাব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দেশের মহাসড়কগুলোর পাশে ২৪টি বিশেষ ট্রমা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর ফলে দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহত ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধার করার পর কাছাকাছি জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার সুযোগ আরও বাড়তে পারে।
তবে মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স চালুর সবচেয়ে বড় সুবিধা পাওয়া যাবে রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও যানজটপ্রবণ এলাকায়। একটি বড় অ্যাম্বুলেন্সকে যেখানে যানজটের কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে, সেখানে মোটরসাইকেলভিত্তিক জরুরি সেবা তুলনামূলক দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করবে। এতে আহত ব্যক্তিকে দ্রুত প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু করা সম্ভব হবে।
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জন্য প্রথম কয়েকটি মিনিট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই দুর্ঘটনার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার সঙ্গে উদ্ধারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা গেলে প্রাণহানি কমানোর ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এখন নতুন ১৮০টি যানবাহন কতটা কার্যকরভাবে মাঠপর্যায়ে পরিচালিত হয় এবং দুর্ঘটনার পর সেবাপ্রাপ্তির সময় কতটা কমে আসে, সেটিই হবে এই উদ্যোগের সাফল্যের অন্যতম বড় পরীক্ষা।
সূত্র: সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!