পরিবারের একজন সদস্য অসুস্থ হওয়ার পর কয়েক দিনের ব্যবধানে অন্য সদস্যদের মধ্যেও জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা কিংবা শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। একই ঘরে দীর্ঘ সময় থাকা, কাছাকাছি থেকে কথা বলা, কাশি-হাঁচি এবং একই ধরনের ব্যবহার্য জিনিস ব্যবহারের কারণে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে পরিবারের কেউ অসুস্থ হওয়ার শুরু থেকেই কিছু সতর্কতা মেনে চললে অন্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে সম্ভব হলে তাকে আলাদা একটি ঘরে রাখা ভালো। একই ঘরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করা এবং অপ্রয়োজনে কাছাকাছি যাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। খাবার, পানি বা ওষুধ দেওয়ার জন্য পরিবারের একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য দায়িত্ব নিতে পারেন। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের অসুস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখা উচিত।
ঘরের ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করাও গুরুত্বপূর্ণ। বদ্ধ ঘরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ানো ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সম্ভব হলে জানালা খুলে ঘরে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। একই ঘরে অনেক মানুষ দীর্ঘ সময় অবস্থান না করাই ভালো। এসি ব্যবহার করলে ঘরের বায়ু চলাচলের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
অসুস্থ ব্যক্তির কাছাকাছি যেতে হলে মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে রোগীর পরিচর্যায় নিয়োজিত ব্যক্তির জন্য ভালোভাবে ফিট হয় এমন মাস্ক ব্যবহার সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। অসুস্থ ব্যক্তিকেও পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছাকাছি যেতে হলে মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখার অভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে, বিশেষ করে অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার পর, খাবার খাওয়ার আগে এবং চোখ, নাক বা মুখে হাত দেওয়ার আগে। কাশি বা হাঁচির সময় টিস্যু ব্যবহার করা কিংবা কনুইয়ের ভাঁজ দিয়ে মুখ ঢেকে রাখাও সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
পরিবারের সবাই ব্যবহার করেন এমন জিনিসপত্র নিয়মিত পরিষ্কার করাও জরুরি। দরজার হাতল, লাইটের সুইচ, রিমোট, মোবাইল ফোন, টেবিল, পানির কল ও টয়লেটের মতো বেশি ব্যবহৃত স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিত। অসুস্থ ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপ, প্লেট ও অন্যান্য জিনিস ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি কাপড়চোপড় ও বিছানার চাদর পরিষ্কার রাখার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
পরিবারের একজন সদস্য অসুস্থ হওয়ার পর অন্যদের শরীরের পরিবর্তনের দিকেও নজর রাখা উচিত। জ্বর, কাশি, সর্দি, গলা ব্যথা, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা বা অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ কমানোও গুরুত্বপূর্ণ।
শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যাদের আগে থেকেই দীর্ঘমেয়াদি কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। তাই পরিবারের এমন সদস্যদের অসুস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখা উচিত। তাঁদের মধ্যে জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
অসুস্থ ব্যক্তির পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে এবং শরীরে পানিশূন্যতা যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পর্যাপ্ত তরল ও সুষম খাবার গ্রহণ সুস্থ হয়ে ওঠার সময়ে সহায়ক হতে পারে। তবে কোনো সংক্রমণ সারাতে শুধু ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সাধারণ জ্বর, সর্দি বা কাশির পাশাপাশি অতিরিক্ত দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব, বিভ্রান্তি কিংবা অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এসব গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি।
পরিবারে একজন অসুস্থ হলেই যে একে একে সবাই আক্রান্ত হবেন, এমন নয়। তবে শুরু থেকেই অসুস্থ ব্যক্তিকে আলাদা রাখা, ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিত করা, প্রয়োজন অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার, নিয়মিত হাত পরিষ্কার করা এবং বেশি ব্যবহৃত জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখার মতো সতর্কতা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!