গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালী টিবি গেটস্থ ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বসম্পন্ন গাউসুল আজম জামে মসজিদে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী মাহফিলের তৃতীয় ও শেষ দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের ও গাউসুল আজম জামে মসজিদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, আমীরে হিযবুল্লাহ ও ছারছীনা দরবার শরীফের পীর আলহাজ হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন।

ছারছীনা দরবার শরীফের পীর ছাহেব বলেছেন, মাযহাব অস্বীকার করে দ্বীনের গভীর ও সুসংহত জ্ঞান অর্জনের পথকে উপেক্ষা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা। কুরআন-সুন্নাহর বিধান নিজের খেয়াল-খুশি বা সীমিত জ্ঞানের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। ইসলামের বিধান বুঝতে হলে যোগ্য আলেম, ফকিহ ও মুজতাহিদ ইমামদের ব্যাখ্যা ও গবেষণার ওপর নির্ভর করতে হবে। তিনি বলেন, মাযহাব ও তাকলীদের বিষয়টি হাদিস সংকলিত হওয়ার পূর্বেই ইজমায়ে উম্মত দ্বারা সিদ্ধান্তকৃত। চার ইমাম তথা ইমাম আবু হানিফা (রহ.), ইমাম মালেক (রহ.), ইমাম শাফেয়ি (রহ.) ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)। এদের মধ্যে ইমামে আযম আবু হানিফা (রহ.) তাবেয়ী ছিলেন। বাকী তিন মাযহাবের ইমামগণও তাবে তাবেয়ীন ছিলেন।

তখন পর্যন্ত হাদিস সংকলন আরম্ভ হলেও হাদিসের লিখিত কিতাবগুলি পরবর্তীকালে সংকলিত হয়েছে। মজার কথা এই যে, মাযহাবের ইমামগণ সকলেই মুহাদ্দিস ছিলেন। তারা কুরআন-সুন্নাহর দলিল, সাহাবায়ে কেরামের আমল এবং গভীর ফিকহি গবেষণার ভিত্তিতে উম্মাহর জন্য দ্বীনি বিধান অনুধাবনের সুসংহত পথ দেখিয়েছেন। তাই মাযহাবকে অস্বীকার করা কিংবা মাযহাব অনুসরণকারী মুসলমানদের হেয় করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপরদিকে তথাকথিত সহীহ হাদিসের অনুসারীগণ যেসব বর্নণাকারী রাবীদের বর্ণিত হাদিস নিয়ে মাযহাবকে অস্বীকার করতে চান তারা সকলেই হয় মুজতাহিদ না হয় মুকাল্লিদ ছিলেন। তিনি মাযহাব বিরোধীদের এই শুভংকরের ফাঁকির বিষয়ে সকলকে সতর্ক থেকে নিজের বিবেক ব্যবহার করে সঠিক আক্বীদা গ্রহণের পরামর্শ দেন।

তিনি আরও বলেন, কুরআন-হাদীসের নাম মুখে নিয়ে নিজের মনমতো ব্যাখ্যা দেওয়া দ্বীনের খেদমত নয়। ফিকহের বিশাল জ্ঞান, আরবি ভাষা, হাদিসের বিভিন্ন স্তর, নাসিখ-মানসুখ, আম-খাস, মুতলাক-মুকাইয়্যাদসহ অসংখ্য বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান ছাড়া শরিয়তের বিধান নির্ধারণ করা আত্মপ্রবঞ্চনার শামিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি ভিডিও বা অনুবাদ পড়ে কেউ নিজেকে ফকিহ মনে করলে তা দ্বীনের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

তিনি বলেন, মাযহাবের ইজতিহাদি মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে উম্মাহর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা যাবে না। আবার মাযহাবের প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করে মানুষকে আলেমদের অনুসরণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রবণতাও প্রতিহত করতে হবে। দ্বীনের বিষয়ে আবেগ নয়, বিজ্ঞ আলেমদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। মাযহাব নিয়ে অযথা বিতর্ক, বিদ্বেষ ও বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থেকে নিজেদের আমল-আখলাক সংশোধন এবং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন গঠনে মনোযোগী হতে হবে।

বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক আলহাজ এ এম এম বাহাউদ্দীনের সভাপতিত্বে মাহফিলের শেষদিন আরও ওয়াজ নসীহত করেন, বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সিনিয়র নায়েবে আমীর আলহাজ হযরত মাওলানা হাফেজ শাহ্ আবু বকর মোহাম্মদ ছালেহ নেছারুল্লাহ, ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত জামেয়ায়ে নেছারিয়া দীনিয়ার নায়েবে মুদীর মাওলানা মো. মামুনুল হক, বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলনা মো. হেমায়েত বিন তৈয়্যেব ও হযরত পীর ছাহেব কেবলার সফরসঙ্গী মাওলানা মোহেব্বুুল্লাহ আল মাহমুদ।

পরিশেষে দেশ ও জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সার্বিক কল্যাণ ও শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে হযরত পীর ছাহেব কেবলা তিনদিনব্যাপী মাহফিলের আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন। এসময় উপস্থিত মুসুল্লিদের আমিন আমিন ক্রন্দনের ধ্বনীতে এক হৃদয়বদিারক দৃশ্যের অবতারনা হয়।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!