একই জায়গায় বসে একই মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলেও অনেক সময় একজনের ইন্টারনেট দ্রুত চলে, আবার অন্যজনের ফোনে গতি কম থাকে। বিষয়টি শুধু মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করে না; এর পেছনে কাজ করে ফোন, সিম, অবস্থান, ব্যবহারকারীর সংখ্যা ও আরও কিছু প্রযুক্তিগত বিষয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মোবাইল ইন্টারনেটের গতি মূলত নির্ভর করে একটি নির্দিষ্ট সময়ে নেটওয়ার্কের ওপর কতটা চাপ রয়েছে এবং ব্যবহারকারীর ডিভাইস সেই নেটওয়ার্ক কতটা ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারছে তার ওপর।

একই টাওয়ার, কিন্তু গতি আলাদা কেন?

একটি মোবাইল টাওয়ার থেকে একই এলাকার অনেক ব্যবহারকারী ইন্টারনেট সেবা নেন। যখন একই সময়ে অনেক মানুষ ভিডিও দেখা, গেম খেলা বা বড় ফাইল ডাউনলোড করেন, তখন টাওয়ারের ওপর চাপ বেড়ে যায়।

ফলে একই এলাকায় থাকা দুই ব্যবহারকারীর মধ্যেও ইন্টারনেটের গতি ভিন্ন হতে পারে।

ফোনের মডেল ও প্রযুক্তির পার্থক্য

সব স্মার্টফোনের নেটওয়ার্ক গ্রহণক্ষমতা এক নয়। আধুনিক ফোনে উন্নত মানের অ্যান্টেনা ও নতুন প্রযুক্তির মডেম থাকে, যা দ্রুতগতির ইন্টারনেট ধরতে পারে।

অন্যদিকে পুরোনো বা কম সক্ষম ফোনে একই নেটওয়ার্ক থাকলেও গতি তুলনামূলক কম পাওয়া যেতে পারে।

সিম কার্ডের বয়স ও মান

অনেক সময় পুরোনো সিম কার্ডে নতুন প্রযুক্তির সুবিধা পুরোপুরি পাওয়া যায় না। দীর্ঘদিন ব্যবহৃত সিমে সমস্যা থাকলে নেটওয়ার্ক সংযোগ দুর্বল হতে পারে।

প্রয়োজনে সিম পরিবর্তন করে নতুন প্রযুক্তি সমর্থিত সিম ব্যবহার করলে ইন্টারনেটের অভিজ্ঞতা উন্নত হতে পারে।

ঘরের ভেতর নাকি খোলা জায়গা—তা গুরুত্বপূর্ণ

দেয়াল, ভবন, কাচ, লোহার কাঠামোসহ বিভিন্ন বাধা মোবাইল সিগন্যাল দুর্বল করতে পারে। তাই ঘরের এক কোণে নেট ধীর হলেও জানালার পাশে বা খোলা জায়গায় গেলে গতি বাড়তে পারে।

একই অপারেটরে ব্যবহারকারীর চাপ

কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় একটি অপারেটরের গ্রাহক সংখ্যা বেশি হলে ওই এলাকার টাওয়ারে চাপ বাড়তে পারে। ফলে দিনের ব্যস্ত সময়ে নেট ধীর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

4G বা 5G সিগন্যালের পার্থক্য

একই এলাকায় কেউ শক্তিশালী 4G বা 5G সিগন্যাল পেতে পারেন, আবার কেউ দুর্বল সিগন্যাল পেতে পারেন। ফোনের নেটওয়ার্ক মোড, টাওয়ারের দূরত্ব ও সিগন্যালের মানের ওপরও গতি নির্ভর করে।

ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অ্যাপও কমিয়ে দিতে পারে গতি

অনেক সময় ফোনের বিভিন্ন অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে ডেটা ব্যবহার করতে থাকে। এতে ইন্টারনেটের গতি কম মনে হতে পারে।

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা বন্ধ করলে কিছুটা উন্নতি পাওয়া যেতে পারে।

নেট দ্রুত পেতে যা করতে পারেন

নেট ধীর হলে প্রথমে ফোন রিস্টার্ট করে দেখতে পারেন। এছাড়া নেটওয়ার্ক মোড ঠিক আছে কি না পরীক্ষা করা, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ করা এবং প্রয়োজন হলে সিম পরিবর্তন করাও কার্যকর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একই জায়গায় থেকেও ইন্টারনেটের গতি ভিন্ন হওয়া স্বাভাবিক। কারণ মোবাইল নেটওয়ার্ক একটি ভাগাভাগি করা প্রযুক্তি, যেখানে ব্যবহারকারী ও পরিবেশ—দুইয়ের প্রভাবই গুরুত্বপূর্ণ।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!