মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকালের সেরা প্রেসিডেন্টদের একটি র‌্যাঙ্কিং চার্ট প্রকাশ করে নিজেকেই শীর্ষে রেখেছেন। তার তৈরি এই তালিকায় জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিংকন ও রোনাল্ড রিগ্যানের মতো ঐতিহাসিক প্রেসিডেন্টরাও পেছনে পড়ে গেছেন।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের শেয়ার করা এই চার্ট ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। অনেক ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষক তার এই র‌্যাঙ্কিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সিএনএনের জরিপের পর ট্রাম্পের পোস্ট

ট্রাম্পের এই পোস্টটি আসে সিএনএনের একটি প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায়। ওই প্রতিবেদনে প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, ৫৩ শতাংশ রিপাবলিকান সমর্থক তাদের সবচেয়ে পছন্দের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পকে বেছে নিয়েছেন।

জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা আব্রাহাম লিংকন বা রোনাল্ড রিগ্যানের চেয়েও বেশি বলে উঠে আসে।

বাদ পড়েছেন জনপ্রিয় রিপাবলিকান নেতারা

ট্রাম্পের শেয়ার করা তালিকায় তার নিকট অতীতের বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের নাম উল্লেখযোগ্যভাবে অনুপস্থিত ছিল।

ইতিহাসবিদ ক্রিস্টোফার ডব্লিউ. জোন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রশ্ন তুলে বলেন, রোনাল্ড রিগ্যান বা জর্জ ডব্লিউ. বুশ এই তালিকায় কোথায় থাকবেন, সে বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট নয়।

ইতিহাসবিদদের সমালোচনা

ট্রাম্পের এই র‌্যাঙ্কিং নিয়ে ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মাইকেল বেইলি ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন। তার মতে, ট্রাম্প মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম খারাপ প্রেসিডেন্ট।

২০২৪ সালে ইতিহাসবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের একটি জরিপেও ট্রাম্পকে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের তালিকার নিচের দিকে রাখা হয়েছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে আলোচনা

ট্রাম্পের প্রকাশ করা তালিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে এটিকে আত্মপ্রশংসামূলক বলে সমালোচনা করেছেন, আবার তার সমর্থকরা এটিকে জনপ্রিয়তার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

ইতিহাস নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ

এর আগেও ইতিহাস ও নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ‘ওয়াক অব ফেভ’ চালু করেন তিনি, যেখানে সাবেক প্রেসিডেন্টদের প্রতিকৃতি ও তাদের অর্জনের বর্ণনা তুলে ধরা হয়।

তবে ইতিহাসবিদদের একাংশের দাবি, সেখানে থাকা কিছু তথ্য পক্ষপাতদুষ্ট ও বিতর্কিত।

সূত্র: The Business Standard

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!