দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। আটা, ময়দা ও চিনির দাম বেড়েছে। অন্যদিকে কয়েক সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম কিছুটা কমে ভোক্তাদের জন্য স্বস্তি ফিরলেও মাছ, মাংস ও ডিমের বাজার এখনো রয়েছে বাড়তি দামের মধ্যেই।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসসংকটের কারণে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় চিনি, আটা, ময়দা ও ভোজ্যতেলের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়েছে।

রাজধানীর মহাখালী, বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে আটা ও ময়দার দাম। বর্তমানে প্যাকেটজাত আটা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৬৫ টাকায়। কয়েক সপ্তাহ আগেও এর দাম ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।

খোলা আটার দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, যা আগে ছিল প্রায় ৪৫ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা।

একইভাবে বেড়েছে ময়দার দাম। বাজারে খোলা ময়দা প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা কোম্পানিভেদে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চিনির বাজারেও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়। এক মাসের ব্যবধানে চিনির দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে প্যাকেট আটা কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, খোলা আটা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, খোলা ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং প্যাকেট ময়দা ৭৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

টিসিবির তথ্য আরও বলছে, এক মাসের ব্যবধানে চিনির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

রাজধানীর এক দোকানি জানান, আটা ও ময়দার খোলা ও প্যাকেট—দুই ধরনের পণ্যের দামই বেড়েছে। দুই কেজির আটার প্যাকেটের দাম ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা এবং দুই কেজির ময়দার প্যাকেট ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে।

বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবুল হাসেম বলেন, গ্যাসের সংকটের কারণে চিনিকলগুলোর উৎপাদন কমেছে। এর ফলে বাজারে চিনির সরবরাহ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কমে গেছে। উৎপাদন কম থাকায় পাইকারি বাজারে চিনির দাম বেড়েছে।

তবে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে সরবরাহ সংকটের কারণে অনেক সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেলেও বর্তমানে সরবরাহ বাড়ায় বেশির ভাগ সবজির দাম কমেছে।

বর্তমানে বাজারে পটোল, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা, শসা, পেঁপেসহ বেশ কিছু সবজির দাম আগের তুলনায় কম। বেশির ভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজির মধ্যে।

বাজারে পটোল ও ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৬০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, বরবটি ও ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে পেঁয়াজ ও আলুর দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। মানভেদে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে।

এদিকে ডিমের দাম এখনো রয়েছে বাড়তি। বর্তমানে বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। প্রায় এক মাস ধরে এই দামেই বিক্রি হচ্ছে ডিম।

মাংসের বাজারেও ভোক্তাদের জন্য স্বস্তি নেই। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি জাতভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, কিছু পণ্যের দাম কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটি পণ্যের বাড়তি দাম এখনো ভোক্তাদের ওপর চাপ তৈরি করছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!