প্রেম, সাম্য ও দ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের এই মহান কবি। দিনটি নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করছে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
১৮৯৯ সালের ২৫ মে (১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। শৈশবে তার ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করেই বেড়ে ওঠেন তিনি।
মাত্র ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল জীবনে কবিতা, গান, উপন্যাস, গল্প, নাটক ও প্রবন্ধসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি রেখে গেছেন নজরুল। তার লেখায় উঠে এসেছে সাম্য, মানবতা, প্রেম, স্বাধীনতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তিশালী বার্তা।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় নজরুলের কবিতা ও গান মানুষের মধ্যে প্রতিরোধের চেতনা তৈরি করেছিল। তার লেখা ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তাকে দ্রোহের কবি হিসেবে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়।
কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। বাংলা সংগীতেও তার অবদান অনন্য। তিনি অসংখ্য গান রচনা করেছেন এবং নতুন নতুন রাগ-রাগিণী সৃষ্টি করে সংগীত জগতে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন।
নজরুলের সাহিত্যজুড়ে যেমন ছিল বিদ্রোহের আহ্বান, তেমনি ছিল গভীর প্রেম ও মানবতার বাণী। তাই তিনি শুধু বিদ্রোহী কবি নন, প্রেমের কবি হিসেবেও মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে সপরিবারে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডি-লিট উপাধিতে সম্মানিত করে। ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং একই বছর একুশে পদকে ভূষিত হন।
নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে সরকারিভাবে ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
জীবনের শেষ সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়া কবি ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) মৃত্যুবরণ করেন। তার ইচ্ছা অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
‘মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই, যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই’—এই আকুতির মধ্য দিয়ে কবির আধ্যাত্মিক অনুভূতিও ফুটে উঠেছিল।
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান আজও অম্লান। তার সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!