বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের প্রশিক্ষণ এবং আত্মকর্মসংস্থান কার্যক্রম বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৭৫ লাখ টাকা ছাড়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই অর্থ ছাড়ের মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে গত রোববার (২৩ আগস্ট) এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ডা. মু. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের প্রশিক্ষণ এবং আত্মকর্মসংস্থান’ শীর্ষক কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের অনুদান খাত থেকে ৭৫ লাখ টাকা ছাড়ের বিষয়টি জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ওই কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের মধ্য থেকে অনুদান খাতের ৭৫ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে। নির্ধারিত উদ্দেশ্য অনুযায়ী এই অর্থ ব্যবহার করে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের প্রশিক্ষণ এবং আত্মকর্মসংস্থান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।

সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিজেদের উদ্যোগে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে উপকারভোগীরা বিভিন্ন ধরনের আত্মকর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

ছাড় করা অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্তও দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রশিক্ষণ সমিতির তালিকায় থাকা তথ্য হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের মধ্যে বরাদ্দকৃত অর্থ সুষ্ঠুভাবে বিতরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছাড় করা অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সব আর্থিক বিধি-বিধান অনুসরণ করতে হবে। নির্ধারিত খাতের বাইরে অর্থ ব্যয় না করার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে।

এ ছাড়া ছাড় করা অর্থ এফডিআরকৃত ব্যাংকে জমা রাখার শর্ত দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে অর্থ সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত খাতে ব্যয় করার ব্যবস্থা করতে হবে।

শুধু অর্থ ছাড় করেই কার্যক্রম শেষ হবে না। অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে এবং প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থান কার্যক্রমের অগ্রগতি কতটা হয়েছে, তার বিস্তারিত হিসাবও মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা দিতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২০ জুন ২০২৭ তারিখের মধ্যে ছাড় করা অর্থের ব্যয় ও কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। প্রতিবেদনে অব্যয়িত অর্থের পরিমাণ এবং ব্যাংক স্থিতিও উল্লেখ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রত্যয়ন ও ব্যাখ্যাসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ছাড় করা ৭৫ লাখ টাকা উত্তোলন এবং নির্ধারিত খাতে ব্যয়ের জন্য বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালককে আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার, সেগুনবাগিচা, ঢাকা কার্যালয় থেকে অর্থ উত্তোলন করে নির্ধারিত খাতে ব্যয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে নিজস্ব উদ্যোগে কাজ শুরু করার সুযোগ পেলে উপকারভোগীদের কর্মসংস্থানের পথ আরও বিস্তৃত হতে পারে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের তরুণ সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে পরিবারের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতাও বাড়তে পারে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ৭৫ লাখ টাকা ছাড়ের সিদ্ধান্তের সঙ্গে অর্থ ব্যবহারে নিয়মনীতি অনুসরণ, উপকারভোগীদের মধ্যে সুষ্ঠু বণ্টন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যয়ের হিসাব ও কার্যক্রমের অগ্রগতি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে। ফলে প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থান কার্যক্রম বাস্তবায়নের পাশাপাশি সরকারি অর্থের ব্যবহারেও নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা থাকছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!