বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আসন্ন ফিফা আসিয়ান কাপ ২০২৬-কে সামনে রেখে জাতীয় দলের একটি প্রাথমিক (প্রিলিমিনারি) স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। এই তালিকায় মোট ২৮ জন ফুটবলারের নাম রয়েছে, যাদের নিয়ে জাতীয় দলের ট্রেনিং ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। দলের গোলরক্ষক হিসেবে আছেন মিতুল মারমা, মোহাম্মদ সুজন হোসেন ও মোহাম্মদ মেহেদী হাসান শ্রাবণের মতো খেলোয়াড়রা। রক্ষণভাগে জায়গা পেয়েছেন তপু বর্মণ, বিশ্বনাথ ঘোষ, সাদ উদ্দিন, আনিসুর রহমান, শাকিল আহাদ তপুসহ আরও অনেকে। মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে জামাল ভূঁইয়া, শেখ মোরসালিন, রাকিব হোসেন, সোহেল রানার মতো পরিচিত মুখও রয়েছেন এই তালিকায়। এছাড়াও মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন, মোহাম্মদ রহমত মিয়া, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ওমর, মোহাম্মদ সাকিল হোসেন, মোহাম্মদ ইসা ফয়সাল, মোহাম্মদ রিদয়, সৈয়দ কাজেম কিরমানী শাহ, মোহাম্মদ সাহারিয়ার ইমন, মোহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, এসএম মনজুরুর রহমান, মোহাম্মদ মিনহাজুল করিম শাদীন, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সৌরভ দেওয়ান এবং মোহাম্মদ রাব্বি হোসেন রাহুলের নামও এই প্রাথমিক দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এই প্রাথমিক স্কোয়াড পরিচালনা করছেন দলের প্রধান কোচ থমাস ডুলি (Thomas Dooley)। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের বর্তমান হেড কোচ হিসেবে দায়িত্বে আছেন এবং এই টুর্নামেন্টের জন্য দল গঠনের মূল দায়িত্ব তাঁর উপরই ন্যস্ত রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যেসব খেলোয়াড় বর্তমানে বিদেশি লিগে খেলছেন, তারা পরবর্তীতে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন—অর্থাৎ চূড়ান্ত স্কোয়াডে আরও অভিজ্ঞ ও প্রবাসী খেলোয়াড় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বোঝা যায়, বর্তমানে ঘোষিত এই তালিকাটি মূলত দেশীয় লিগে খেলা খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত একটি প্রাথমিক ধাপ, যা পরবর্তীতে সম্প্রসারিত হবে।

ফিফা আসিয়ান কাপ ২০২৬ আয়োজিত হবে আগামী বছর, এবং এর প্রস্তুতিস্বরূপ জাতীয় দলের ট্রেনিং ক্যাম্প শুরু হচ্ছে এখনই। এই প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো, যা টুর্নামেন্ট শুরুর আগ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে চলবে। এই সময়ের মধ্যে খেলোয়াড়দের ফিটনেস, কৌশল এবং দলগত সমন্বয় যাচাই করে দেখা হবে।

টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে ইন্দোনেশিয়াতে। আয়োজক দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া এই আসরের মূল কেন্দ্রবিন্দু, আর সেখানেই বাংলাদেশসহ আসিয়ান অঞ্চলের বিভিন্ন দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ দেশের ফুটবল অঙ্গনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফিফা আসিয়ান কাপ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ফুটবল টুর্নামেন্ট, যেখানে অংশগ্রহণ বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন এবং দলগত উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজ করে। এই কারণেই বাফুফে আগেভাগেই বৃহৎ পরিসরে প্রাথমিক দল ঘোষণা করে খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যাতে কোচ থমাস ডুলি বিভিন্ন খেলোয়াড়ের সামর্থ্য যাচাই করে সেরা চূড়ান্ত দল বাছাই করতে পারেন।

প্রাথমিক স্কোয়াডে ২৮ জন খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করে একটি বিস্তৃত ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে, যাতে ক্যাম্পের মাধ্যমে ফিটনেস, খেলোয়াড়দের সমন্বয় এবং কৌশলগত প্রস্তুতি যথাযথভাবে যাচাই করা যায়। দেশীয় লিগে খেলা খেলোয়াড়দের নিয়ে আগেই ক্যাম্প শুরু হচ্ছে, পরে বিদেশি লিগে খেলা খেলোয়াড়রা যোগ দিলে দলটি আরও শক্তিশালী রূপ নেবে। এই ধাপে ধাপে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোচিং স্টাফ চূড়ান্ত স্কোয়াড নির্ধারণ করবেন, যা টুর্নামেন্টের আগে বাংলাদেশ দলের সামগ্রিক প্রস্তুতিকে আরও মজবুত করবে।
সব মিলিয়ে, ফিফা আসিয়ান কাপ ২০২৬-কে ঘিরে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রস্তুতি এখন পুরোদমে চলছে। কোচ থমাস ডুলির নেতৃত্বে ঘোষিত এই প্রাথমিক স্কোয়াড আসন্ন টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে নতুন করে বিশ্লেষণ করার সুযোগ করে দিয়েছে। বিদেশি লিগের খেলোয়াড়দের যুক্ত হওয়ার পর দলের শক্তিমত্তা আরও বাড়বে বলে আশা করা যায়, যা ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এই আসরে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!