হোসে মরিনহো রিয়াল মাদ্রিদে দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদ্রিদের অভিজাত এলাকা লা ফিনকায় তার পুরনো ঠিকানায় ফিরে গেছেন। এই এলাকাটি অবস্থিত পোথুয়েলো দে আলারকোনে, যেখানে তিনি রিয়াল মাদ্রিদের প্রথম মেয়াদেও বসবাস করেছিলেন। ৬৩ বছর বয়সী পর্তুগিজ কোচ এবার একটি বিলাসবহুল ম্যানশনে থাকছেন, যার নির্মিত অংশের আয়তন প্রায় ১,৪০০ বর্গমিটার এবং পুরো জমির পরিমাণ ৫,০০০ বর্গমিটারেরও বেশি। এই বাসস্থানের মাসিক ভাড়া প্রায় ২০,০০০ ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ লাখ টাকার সমান—মরিনহোর মর্যাদা ও জীবনযাত্রার মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি অঙ্ক।
বাড়িটির স্থাপত্যশৈলী পুরোপুরি আধুনিক ধাঁচের। ভেতরে রয়েছে প্রশস্ত জায়গা, উঁচু ছাদ এবং বড় বড় জানালা, যার ফলে প্রায় প্রতিটি কক্ষেই পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো প্রবেশ করে। সুইমিং পুল, ব্যক্তিগত বাগান এবং চব্বিশ ঘণ্টার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও রয়েছে এই বাসভবনে। সাজসজ্জার দিক থেকে অতিরিক্ত জাঁকজমকের বদলে সাদামাটা ও মার্জিত রেখার নকশা বেছে নেওয়া হয়েছে, যা বর্তমান সময়ের বিলাসবহুল আবাসন বাজারের প্রবণতার সঙ্গে মিলে যায়। প্রশস্ত খোলামেলা রান্নাঘর, বাগানমুখী বড় বসার ঘর এবং ব্যায়ামের জন্য আলাদা জায়গাও রাখা হয়েছে বাড়িতে, যা একজন উচ্চপর্যায়ের ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের জীবনযাত্রার উপযোগী করে তোলে।
মজার বিষয় হলো, মরিনহোর আগে এই বাড়িতে থাকতেন খ্যাতনামা গায়ক আলেহান্দ্রো সানথ। তবে তিনি ভাড়া দিতেন তুলনামূলক কম—প্রায় ১১,০০০ ইউরো মাসে—যা থেকে বোঝা যায় মরিনহোর সময়ে ভাড়ার পরিমাণ কতটা বেড়েছে। লা ফিনকা এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই ক্রীড়া ও ব্যবসায়িক জগতের তারকাদের প্রিয় ঠিকানা। মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদে থাকাকালীন সময়ে সের্হিও রামোস ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো তারকা ফুটবলাররাও এই এলাকায় বসবাস করতেন, যা এলাকাটিকে বিশ্ব ফুটবলের অভিজাত ব্যক্তিত্বদের সংরক্ষিত এক জায়গা হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। অত্যন্ত গোপনীয়তা ও উচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য পরিচিত এই এলাকা বহু ক্রীড়া ও ব্যবসায়িক জগতের তারকার আবাসস্থল হয়ে আছে।
উল্লেখ্য যে, এটি মরিনহোর জন্য সম্পূর্ণ নতুন কোনো ঠিকানা নয়। ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের কোচ থাকাকালীন সময়েও তিনি এই একই এলাকায় বসবাস করতেন, যে সময়ে তিনি ক্লাবের হয়ে লা লিগা, কোপা দেল রে ও সুপারকোপা দে এস্পানিয়া শিরোপা জিতেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর আবার সেই একই আবাসস্থলে ফিরে যাওয়াটা মরিনহোর জন্য যেন এক পরিচিত আশ্রয়ে প্রত্যাবর্তন।
বাড়িটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে শহরকেন্দ্রের ব্যস্ততা এবং ফুটবলার-তারকাদের মধ্যে জনপ্রিয় কিছু আবাসিক এলাকা থেকে দূরে প্রশান্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য উপভোগ করা যায়। অন্য অনেক কোচ মাদ্রিদের এল ভিসো বা লা মোরালেহার মতো এলাকা বেছে নিলেও, মরিনহো সবসময় লা ফিনকার প্রতি পক্ষপাত দেখিয়ে এসেছেন। শহরকেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থান এবং এলাকার প্রশান্তি ও গোপনীয়তা তার জন্য বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় ছিল, এবং এখনো সেই একই কারণে তিনি এই বাড়িটিকেই বেছে নিয়েছেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, রিয়াল মাদ্রিদে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে হোসে মরিনহো তার পুরনো, পরিচিত ও নিরাপত্তা-সমৃদ্ধ ঠিকানায় ফিরে গেছেন—যা তার মর্যাদা ও পেশাগত জীবনযাত্রার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বাসস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!