২০২৬ সালের বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ও ৫১ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। এই হারের ফলে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ ব্যবধানে সমতায় শেষ হয়েছে। প্রথম টেস্টে ডারউইনে নয় উইকেটের ঐতিহাসিক জয় পেয়ে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ, কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটিং বিপর্যয়ে সেই সাফল্য ধরে রাখতে পারেনি টাইগাররা।
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের ম্যাকাই শহরের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায়, যা এই ভেন্যুর টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ম্যাচ ছিল। ২২ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচদিনের সূচি নির্ধারিত থাকলেও ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ম্যাচ দুই দিনেরও কম সময়ে শেষ হয়ে যায়, যা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিতীয় সংক্ষিপ্ততম টেস্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মাঠের অভিষেক স্মরণীয় করে রাখতে দর্শকরা ভিড় জমালেও, দ্রুত ম্যাচ শেষ হওয়ায় তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া, ফলে ব্যাটিংয়ে নামতে বাধ্য হয় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী স্পেলে ৩৪ ওভারে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয় পুরো দল, যেখানে স্টার্ক একাই তুলে নেন ৬ উইকেট মাত্র ১২ রান খরচায়। জবাবে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়াও শুরুতে কম ধুঁকেনি। বাংলাদেশের পেসার শরিফুল ইসলাম আগুন ঝরানো বোলিংয়ে একে একে ফিরিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার টপ ও মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের। এক পর্যায়ে ৮ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। বো ওয়েবস্টার প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে শূন্য রানে ফেরেন, কামিন্স দ্বিতীয় বলে ক্যাচ দিয়ে আউট হন, আর স্টার্ক নিজেও বোল্ড হয়ে যান মাত্র ১ রানে।
তবে এই ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও অবিচল থাকেন ক্যামেরন গ্রিন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ক্রিজে কাটিয়ে ৬৭ রানের এক অপরাজিত লড়াকু ইনিংস খেলে দলকে টেনে তোলেন তিনি। শেষ উইকেটে নাথান লায়নের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে পৌঁছে দেন গ্রিন, যা বাংলাদেশের চেয়ে ১৪৬ রানের বিশাল লিড এনে দেয়। স্টিভ স্মিথও ৪২ রানের কার্যকর ইনিংস খেলে দলকে সাহায্য করেন।
১৪৬ রানের লিড নিয়ে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে ফলো-অনে পাঠায়, আর দ্বিতীয় ইনিংসেও একই দুঃস্বপ্নের পুনরাবৃত্তি ঘটে টাইগারদের ব্যাটিংয়ে। শাদমান ইসলাম আবারও স্কয়ার-আপ হয়ে সহজ ক্যাচ তুলে দেন, মোমিনুল হক পরের বলেই বোল্ড হয়ে ফেরেন, আর তানজিদ হাসান হুক করতে গিয়ে ডিপ ফাইন লেগে ধরা পড়েন। পুরো সিরিজ জুড়েই রানের জন্য সংগ্রাম করা লিটন দাস এই ইনিংসেও শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন, আর মেহেদী মিরাজ একটি ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলে উইকেট বিলিয়ে দেন। এমন পরিস্থিতিতে একপ্রান্ত আগলে রাখেন নাজমুল হোসেন শান্ত, যিনি ৩১ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন, তবে তার বিদায়ের পর ব্যাটিং বিপর্যয় আরও তীব্র হয়।
শেষদিকে মুশফিকুর রহিম অপরাজিত ২৯ রানে লড়াই চালিয়ে যান এবং তাসকিন আহমেদের সঙ্গে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন, কিন্তু লেজের ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে স্ট্রাইক ভাগাভাগি না করার কৌশল শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি। মিচেল স্টার্কের একটি আগুনে ডেলিভারিতে তাইজুল ইসলামের লেগ স্টাম্প উপড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ম্যাচের ইতি ঘটে। এই উইকেটের মাধ্যমেই টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো টেন-উইকেট হল সম্পন্ন করেন স্টার্ক, যিনি দ্বিতীয় ইনিংসে নেন ৪টি উইকেট মাত্র ৩৯ রান খরচায়। পাত কামিন্সও মিতব্যয়ী বোলিংয়ে ৩টি উইকেট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মাত্র ৯৫ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস, যা অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহের চেয়ে ৫১ রান কম থেকে যায়— আর তাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস ও ৫১ রানের জয়।
এই হারের মধ্য দিয়ে সিরিজ শেষ হয় ১-১ সমতায়, তবে দ্বিতীয় টেস্টের এই একপেশে ফল বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের গভীর দুর্বলতাগুলোকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। প্রথম টেস্টের ঐতিহাসিক জয়ের রেশ কাটিয়ে ওঠার আগেই এমন বিপর্যয় নিঃসন্দেহে হতাশ করেছে বাংলাদেশের সমর্থকদের।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!