স্মার্ট টিভি এখন শুধু টেলিভিশন চ্যানেল দেখার যন্ত্র নয়। ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে আধুনিক স্মার্ট টিভিতে এমন অনেক সুবিধা থাকে, যেগুলো অনেক ব্যবহারকারী টিভি কেনার পরও জানেন না। ফলে দাম দিয়ে উন্নত প্রযুক্তির টিভি কিনেও অনেকে সেটির গুরুত্বপূর্ণ ফিচার ব্যবহার করতে পারেন না। বিশেষ করে মোবাইল থেকে সরাসরি টিভিতে ভিডিও চালানো, ফোনকে রিমোট হিসেবে ব্যবহার করা, ভয়েস কমান্ডে টিভি নিয়ন্ত্রণ, HDMI-CEC দিয়ে এক রিমোটে একাধিক ডিভাইস চালানো এবং Ambient বা Screensaver Mode-এর মতো সুবিধা অনেকের কাছেই অজানা।
প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ফিচার হলো মোবাইল থেকে সরাসরি টিভিতে ভিডিও Cast করা। আপনার স্মার্ট টিভি Google Cast সমর্থন করলে একই Wi-Fi নেটওয়ার্কে থাকা ফোন, ট্যাবলেট বা কম্পিউটার থেকে ভিডিও সরাসরি টিভির বড় পর্দায় চালানো যায়। এ ক্ষেত্রে ফোনের স্ক্রিন পুরোপুরি টিভিতে দেখানোর প্রয়োজন নেই; সমর্থিত অ্যাপের Cast অপশন ব্যবহার করে কনটেন্ট টিভিতে পাঠানো যায়। Google-এর তথ্য অনুযায়ী, Google TV-তে ফোন বা ট্যাবলেট থেকে Cast করতে হলে উভয় ডিভাইস একই Wi-Fi নেটওয়ার্কে থাকতে হয়।
এই সুবিধাটি বিশেষ করে YouTube ভিডিও, ছবি বা অন্য সমর্থিত কনটেন্ট পরিবারের সবাইকে দেখানোর সময় বেশ কাজে আসে। ফোনে ছোট স্ক্রিনে ভিডিও দেখার পরিবর্তে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেটি টিভির বড় স্ক্রিনে চালানো যায়। তবে সব স্মার্ট টিভি বা সব অ্যাপ একইভাবে Cast সমর্থন করে না। তাই আপনার টিভির মডেল ও ব্যবহৃত অ্যাপের সামঞ্জস্য আগে দেখে নেওয়া উচিত।
দ্বিতীয় ফিচারটি হলো মোবাইল ফোনকেই টিভির রিমোট হিসেবে ব্যবহার করা। অনেকেই রিমোট হারিয়ে গেলে বা রিমোটের ব্যাটারি শেষ হলে সমস্যায় পড়েন। কিন্তু Google TV বা Android TV সমর্থিত ডিভাইসের ক্ষেত্রে Google TV অ্যাপ ব্যবহার করে ফোনকে ভার্চুয়াল রিমোট হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এর মাধ্যমে চ্যানেল বা কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ, Play-Pause, ভলিউম পরিবর্তন, সার্চে লেখা টাইপ করা এবং কিছু ক্ষেত্রে টিভি চালু বা বন্ধ করার মতো কাজও করা যায়।
বিশেষ করে টিভিতে পাসওয়ার্ড বা কোনো সার্চ লিখতে হলে রিমোটের ছোট ছোট বোতাম চাপার চেয়ে ফোনের কিবোর্ড ব্যবহার অনেক দ্রুত ও সুবিধাজনক। তবে এই ফিচারের কার্যক্রম টিভির অপারেটিং সিস্টেম ও মডেলভেদে ভিন্ন হতে পারে।
তৃতীয় গোপন সুবিধা হলো Voice Search বা Voice Control। অনেক স্মার্ট টিভির রিমোটে মাইক্রোফোন বা ভয়েস কমান্ডের সুবিধা থাকে। ফলে রিমোটে দীর্ঘ নাম টাইপ করার পরিবর্তে সরাসরি কথা বলে সিনেমা, ভিডিও বা নির্দিষ্ট তথ্য খোঁজা যায়। Google TV-এর Voice Remote-এ Google Assistant ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে এবং সমর্থিত ডিভাইসে ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে কনটেন্ট খোঁজা বা টিভি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
এমনকি কিছু সেটআপে Google Assistant বা Google Home-এর মাধ্যমে ভয়েস কমান্ড দিয়ে টিভি চালু বা বন্ধ করার সুবিধাও পাওয়া যায়। তবে এর জন্য টিভি, স্মার্ট স্পিকার বা সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের সামঞ্জস্য এবং HDMI-CEC-এর মতো নির্দিষ্ট ফিচার চালু থাকার প্রয়োজন হতে পারে। সব মডেল বা অঞ্চলে একই সুবিধা পাওয়া যাবে না।
চতুর্থ ফিচার হলো HDMI-CEC, যেটি অনেক ব্যবহারকারী নামই জানেন না। CEC-এর মাধ্যমে HDMI দিয়ে সংযুক্ত একাধিক ডিভাইসের কিছু নিয়ন্ত্রণ একটি রিমোট থেকে করা যায়। যেমন টিভির সঙ্গে কোনো স্ট্রিমিং ডিভাইস সংযুক্ত থাকলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেটি ব্যবহার করার সময় টিভি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট HDMI ইনপুটে চলে যেতে পারে। কিছু টিভিতে ডিভাইসের কার্যক্রমের সঙ্গে পাওয়ার অন বা অফের সুবিধাও পাওয়া যায়।
তবে HDMI-CEC-এর নাম সব ব্র্যান্ডে একই নয়। Samsung এটিকে Anynet+, LG SimpLink এবং Sony BRAVIA Sync-এর মতো ভিন্ন নামে ব্যবহার করে। তাই টিভির Settings-এ সরাসরি “HDMI-CEC” না পেলেও HDMI, Device Link, Sync বা ব্র্যান্ডের নিজস্ব নামে অপশনটি থাকতে পারে।
পঞ্চম ফিচারটি হলো Ambient Display বা উন্নত Screensaver Mode। টিভি বন্ধ থাকা অবস্থায় স্ক্রিনকে শুধু কালো করে রাখার পরিবর্তে কিছু স্মার্ট টিভিতে ছবি, আর্টওয়ার্ক, সময়, আবহাওয়া বা অন্যান্য তথ্য দেখানোর ব্যবস্থা থাকে। কিছু Google TV মডেলে উপস্থিতি শনাক্ত করার সেন্সর থাকলে ঘরে কেউ প্রবেশ করলে Ambient Display সক্রিয় হতে পারে এবং কেউ না থাকলে স্ক্রিন বন্ধ করার মতো সুবিধাও পাওয়া যায়।
তবে Ambient Display বা Presence Sensing সব স্মার্ট টিভিতে নেই। আবার এই ধরনের ফিচার চালু করলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে Standby Power ব্যবহারের পরিমাণ বাড়তে পারে। তাই ব্যবহারকারীর প্রয়োজন না থাকলে সেটিংস থেকে এটি বন্ধ রাখাও যেতে পারে।
স্মার্ট টিভির আরও অনেক ফিচার থাকতে পারে, যেমন Parental Controls, Bluetooth ডিভাইস সংযোগ, বিভিন্ন Accessibility সুবিধা, Smart Home ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ, ব্যক্তিগত প্রোফাইল এবং কনটেন্টের ব্যক্তিগতকৃত সুপারিশ। Google TV-এর অফিসিয়াল সহায়তা পেজেও এসবের পাশাপাশি Cast, Voice Assistant, Screensaver ও Smart Home নিয়ন্ত্রণের মতো বিভিন্ন সুবিধা উল্লেখ রয়েছে। তবে কোন ফিচার পাওয়া যাবে তা টিভির ব্র্যান্ড, মডেল, অপারেটিং সিস্টেম, অঞ্চল ও সফটওয়্যার সংস্করণের ওপর নির্ভর করে।
তাই স্মার্ট টিভি কেনার পর শুধু YouTube বা Netflix চালিয়েই থেমে থাকা উচিত নয়। Settings মেনুতে গিয়ে Network, Remote, Voice, HDMI, Display, Power, Privacy এবং Accessibility—এসব বিভাগ একবার ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত। এতে আপনার টিভিতে আগে থেকেই থাকা এমন অনেক সুবিধা আবিষ্কার হতে পারে, যেগুলোর জন্য আলাদা কোনো ডিভাইস কেনার প্রয়োজন নেই।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো ফিচার চালু করার আগে সেটি কীভাবে কাজ করে এবং কী ধরনের তথ্য বা অনুমতি প্রয়োজন তা বুঝে নেওয়া। বিশেষ করে মাইক্রোফোন, Presence Sensor, Personalization বা Voice Assistant-সংক্রান্ত ফিচারে Privacy Settings দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো। কারণ স্মার্ট টিভি এখন শুধু ছবি দেখানোর যন্ত্র নয়; এটি ঘরের একটি ইন্টারনেট-সংযুক্ত স্মার্ট ডিভাইসও।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!